ইসলামে শহীদের মর্যাদা
আল্লাহর দ্বীন বাস্তবায়নে যে ব্যক্তি নিহত হয়, তাকে শহীদ বলা হয়। ইসলামে শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তাদেরকে মৃত মনে করো না; বরং তারা বিশেষ হায়াতপ্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রিজিক ও নিয়ামতপ্রাপ্ত হচ্ছে।’ (সূরা আলে-ইমরান-১৬৯)
শহীদি মৃত্যুর প্রকারভেদ
ক. প্রকৃত শহীদ অথবা হাকিকি শহীদ, যা হলো, দুনিয়ায় দ্বীন কায়েমের জন্য যুদ্ধ করে জীবন দেয়া। এ ধরনের শহীদের মর্যাদা অনেক বেশি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ রয়েছে- ‘আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা তা বুঝো না।’ (সূরা আল-বাকারাহ-১৫৪)
খ. হুকমি শহীদ : যারা শহীদি মৃত্যুর সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘এ ধরনের শহীদ পাঁচ শ্রেণীর মানুষ। যেমন-
১. মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী; ২. পানিতে নিমজ্জিত ব্যক্তি; ৩. শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত; ৪. পেটের রোগে মৃত্যুবরণকারী; ৫. অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী; ৬. যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায়; ৭. প্রসবকালীন সময়ে মৃত্যুবরণকারী নারী। (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস-৫৫৪)
অন্য হাদিস হজরত জাবের রা: বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সা: শহীদদের সর্দার হামজাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং সেই মজলুম ব্যক্তি, শহীদ যেকোনো স্বৈরাচারী শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে (ভালো কাজের আদেশ) ও (মন্দ কাজে) নিষেধ করায় সে তাকে হত্যা করে।’ (মুসনাদে আহমাদ-২০১৩)
শহীদি মৃত্যুর মর্যাদা : হাদিস শরিফে ইরশাদ রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘কোনো জান্নাতি এটা চাবে না যে, তাকে আবার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যদিও তাকে সারা পৃথিবীর মালিক বানিয়ে দেয়া হয়; কিন্তু একজন শহীদ তার জান্নাতি মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে কামনা করতে থাকবে, তাকে অন্তত ১০ বার দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যেন প্রতিবার সে শহীদ হয়ে আসতে পারে।’ (বুখারি-২৮১৭)
অন্যত্র স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা: শহীদি মৃত্যুর তামান্না করে ইরশাদ করেন, ‘ওই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! আমার বড় ইচ্ছে হয়, আমি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হবো! আমাকে জীবিত করা হবে, আবার আমি নিহত হবো! পুনরায় আমাকে জিন্দা করা হবে এবং আমি আবার আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দেবো!’ (বুখারি-৭২২৬)
প্রত্যেক প্রাণীকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।’ (সূরা আলে-ইমরান-১৮৫) সুতরাং, যে মরণ আসবেই, তার জন্য ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হওয়া জরুরি। রবের প্রেমে সিক্ত হয়ে তার সাথে আলিঙ্গন করার প্রতি নামাজান্তেই তা কামনা করতে হবে। হে মহান দয়ালু দাতা, আপনি আমাদের শহীদি মর্যাদা লাভের জন্য কবুল করুন।
No comments
ধন্যবাদ।