বিসিবিতে বড়সড় পরিবর্তনের সভা বৃহস্পতিবার
ভোরের সময় খুবই বরকতময়। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পার্থিব সব কাজের জন্য এটি উপযুুক্ত মুহূর্ত। রাসুল (সা.) উম্মতের জন্য ভোরের কাজে বরকতের দোয়া করেছেন। দিনের প্রথম প্রহরে তিনি যুদ্ধাভিযান ও ব্যবসার কাফেলা রওনা করার নির্দেশ দিতেন। তাই প্রত্যুষে জেগে ওঠা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
এ ছাড়া রাতের শেষভাগে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন। এ সময় জাগতে পারা ব্যক্তিরা বড়ই সৌভাগ্যবান। জান্নাতি মানুষের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা শেষ রাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ১৮)। রাত শেষে সুন্দর একটি ঘুম দিয়ে জেগে ওঠা আল্লাহ তায়ালার অনন্য নেয়ামত। এ নেয়ামতের কারণে মানুষ নতুন জীবনপ্রাপ্ত হয়। কারণ অনেকের ঘুম হয়ে যায় অনন্তকালের ঘুম।
এক হাদিসে ঘুমকে মৃত্যুর ভাই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ঘুম থেকে পুনরায় জেগে ওঠা ঈমানদারের কাছে স্বাভাবিক নয়, বরং আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে শোকরিয়া আদায় করা উচিত। তাই ইসলাম ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কী করণীয় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুন্নত পদ্ধতির শিক্ষা দিয়েছে। যেমন-জাগ্রত হওয়ার পর দোয়া পড়া, মিসওয়াক করা, উভয় হাত দ্বারা নিজের চেহারা ও চক্ষুদ্বয় কচলিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। এ সুন্নতগুলো আমল করলে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় হবে। মুমিনদের উচিত জাগ্রতকালে সুন্নতগুলোর আমল করা।
ঘুম থেকে জাগা আল্লাহ তায়ালার অফুরন্ত নেয়ামত। ঘুমের পর চক্ষুদ্বয় আবার পৃথিবীর আলো ফিরে পাওয়া মানবজাতির জন্য মুক্তার তুল্য। ঘুম নামের মৃত্যুজগৎ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দাকে জাগ্রত করার মাধ্যমে পুনরায় জীবন দান করেন। তাই নবীজি (সা.) জাগার পর যে দোয়াটি পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন তাতে আল্লাহর প্রশংসা ও শোকরিয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত হুজাইফা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর, অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মৃত্যুবরণের পর পুনরায় আমাদের জীবিত করলেন, আর তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।’ (বুখারি : ৬৩৮৫)
এ ছাড়া ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর আমল করার মতো আরও কিছু সুন্নত রয়েছে। যেমন-১. ঘুম থেকে ওঠে দুই হাত দ্বারা মুখমণ্ডল ও দুই হাত হালকাভাবে মর্দন করবে, যাতে ঘুমের প্রভাব কেটে যায় ২. তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বলা ৩. তিনবার কালেমায়ে তায়্যিবা পড়া ৪. ঘুম থেকে ওঠে মিসওয়াক করা ৫. ঘুম থেকে ওঠে ওজু করা উত্তম ৬. ঘুম থেকে জাগ্রত হলে এ দোয়া পড়া, আলহাদুলিল্লাহিল্লাজি ইয়ুহয়িল মাওতা ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির, অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং প্রত্যেক জিনিসের ওপর শক্তিধর ৭. জাগ্রত হয়ে এ দোয়াটিও পড়া সুন্নত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালুহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির, আলহামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলি, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। সারা জগতের বাদশাহি তাঁর। সব প্রশংসা আল্লাহর। তিনি প্রত্যেক জিনিসের ওপর শক্তির মালিক। সমুদয় প্রশংসা তাঁর জন্য। তাঁর সত্তা পবিত্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ সবার বড়। তিনি ব্যতীত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। না ভালো কাজ করার শক্তি আছে। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো। (মুসতাদরাকে হাকেম, হিসনে হাসিন)
No comments
ধন্যবাদ।