টেক্সটাইল মালিকরা আর্থিক ক্ষতি পূরণে ঋণ চান
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে টেক্সটাইল মালিকরা অনভিপ্রেত ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে জানিয়ে এ খাতে সহজশর্তে ঋণ দেওয়াসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। দাবি সংবলিত চিঠি অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে দিয়েছে সংগঠনটি।
বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকনের সই করা চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২ সপ্তাহের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে যদিও সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব ছিল না তথাপি আমরা বেশ কিছু অনভিপ্রেত ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।
সংগঠনটি বলছে, যথাসময়ে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে না পারা, বাজার বন্ধ থাকায় স্থানীয় মিলগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারা ও রফতানিমুখী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলে মিলগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মিলগুলো বন্ধ থাকায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি অর্থাৎ প্রচ্ছন্ন রফতানি খাতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্রয়াদেশ বাতিল, উৎপাদন হ্রাস পাওয়া, মিলগুলোতে শ্রমিকদের অনুপস্থিতি, সাপ্লাই চেইন কাঁচামাল না পাওয়াসহ সব মিলিয়ে টেক্সটাইল শিল্পের মালিকরা ভয়াবহ কঠিন সময় অতিক্রম করছে।
জুলাই মাসের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সময় সন্নিকটে জানিয়ে সংগঠনটি তিনটি দাবি জানিয়েছে। দাবির মধ্যে রয়েছে-বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক মিলের চলতি মাসের বেতন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ সুদ হারে ১ বছর মেয়াদে ব্যাংক থেকে লোন হিসাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সুবিধার্থে একই সুদ হারে (২%) এক বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা। ক্রমাগত লোকসানে থাকা প্রচ্ছন্ন রফতানিমুখী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর পক্ষে এ মুহূর্তে মেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে এমতাবস্থায় সব মেয়াদি ঋণের কিস্তিগুলো আগামী ৬ মাসের জন্য সুদবিহীন করে কিস্তি পরিশোধ স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয় চিঠিতে।
এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিটিএমএর সদস্যভুক্ত মিলগুলো কর্তৃক ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে সরবরাহকৃত ইয়ার্ন ও ফেব্রিকের বিপরীতে তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট এলসি প্রদানকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কর্তৃক এক্সপেক্টেড বিল
যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে চিঠিতে।
বিলের অর্থ প্রাপ্ত হলে সদস্য মিলগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে বলে জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, কোনো প্রণোদনার আবেদন করছি না। ঋণ ধারাবাহিকভাবে এক বছরের মধ্যে মালিকরা পরিশোধ করবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিটিএমএর সদস্য মিলগুলো বর্তমানে তৈরি পোশাক শিল্পের মধ্যে নিট খাতের প্রয়োজনীয় সুতার প্রায় ৯০ শতাংশ এবং উইভিং এ ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করছে। এ ছাড়াও ডেনিম, হোম টেক্সটাইল ও টেরি টাওয়ালের শতভাগ দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রফতানি আয়ে ব্যাপক অবদান রাখছে।
No comments
ধন্যবাদ।