Header Ads

Header ADS

হত্যা, হামলা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচারের দাবি নীলদলের

 'কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সকল হত্যা, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের উপর হামলা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচার চাই' শীর্ষক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল।



শনিবার (৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনস্থ অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি।


মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া তার বক্তব্যে বলেন, তারা সবসময় কোটার যৌক্তিক সমাধান চেয়েছেন। তবে তৃতীয় পক্ষ শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালনা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।


তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোটা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। তারপর অনুপ্রবেশকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের বিপথে পরিচালিত করে হল দখল, রুম ভাঙচুর, শিক্ষকদের হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা লাশ ফেলার চেষ্টা করেছে।


হত্যা, হামলা, নাশকতা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচারের দাবি ঢাবি নীলদলের

আন্দোলনকারীদের স্লোগানে উত্তাল মিরপুর ১০

বোরকা পরে অপশক্তি রোকেয়া হলে ঢুকেছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, তারা রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে অবরুদ্ধ করেছিল, শিক্ষার্থীদের গায়ে হামলা করেছিল। মুখোশ পরে, বোরকা পরে তারা রোকেয়া হলে প্রবেশ করেছিল। এই যে অপশক্তির এই অপকর্ম করেছিল আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।


শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য শিক্ষক সমিতি বিবৃতি দিয়েছিল মন্তব্য করে অধ্যাপক নিজামুল হক বলেন, যে সমস্ত শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আহতদের চিকিৎসার জন্য আমরা তখনই শিক্ষক সমিতি থেকে বিবৃতি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে বলেছি তাদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য। এ ছাড়া সেসময় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কোটা আন্দোলনকারী-ছাত্রলীগ সবাই আমার শিক্ষার্থী। আমরা তাদের পাশে থেকেছি।


মানববন্ধনের পর শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্য প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর হয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের কার্যালয়ে গিয়ে পাঁচ দফা দাবিতে তার হাতে স্মারকলিপি দেন। এর আগে মানববন্ধনে স্মারকলিপিটি পড়ে শোনান নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী।


তাদের দাবিগুলো হলো- কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করা; আবাসিক হলগুলোতে বৈধ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়ন করা; আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং যেকোনো ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন রোধে নীতিমালা প্রণয়ন করা; গ্রন্থাগারগুলোতে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


এছাড়া স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অনাকাক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ-আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শিক্ষার্থীসহ অনেকেই নিহত ও আহত হয়েছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এ-সকল প্রাণহানির ঘটনায় নীলদল গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নিহতদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। একইসাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।


মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী, কলা অনুষদ ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির, নীলদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম ও অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.