Header Ads

Header ADS

সাদাস্রাব : মেয়েদের সাধারণ সমস্যা

 লিউকোরিয়াকে বাংলায় সাদা¯্রাব, শ্বেতপ্রদর, মেহ, প্রমেহ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। আসলে এটি কোন রোগ নয়, রোগের উপসর্গ মাত্র। মেয়ে শিশু হতে বয়স্ক মহিলাদের জীবনে কোন না কোন সময় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোন কারণবশত মেয়েদের মাসিকের রাস্তা দিয়ে রস শ্লেস্মা বা পুঁজযুক্ত গাঢ় সাদা¯্রাব নিঃসরণ হলে একে লিউকোরিয়া বা সাদা¯্রাব বলা হয়। ঋতুবর্তী মেয়েদের মাসিকের আগে বা পরে এর পরিমাণের তারতম্য হয়ে থাকে। অনেক দিন যাবৎ এ রোগে আক্রান্ত হলে ¯্রাব হলুদ ও দূর্গন্ধযুক্ত হতে পারে।




সাদা¯্রাব মেয়েদের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে সাদা¯্রাব জীবন শৈলী ও শারীরবৃত্তীক, যাকে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে নিঃসৃত হলে, ¯্রাবের সাথে রক্ত গেলে, দূর্গন্ধ হলে, রংয়ের পরিবর্তন হলে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েরা এ সমস্যা লুকিয়ে রাখে, বলতে চায় না। সাদা¯্রাব হলে গোপন করা ক্ষতি, এতে ভয়ানক বিপদ হতে পারে।


কারণ

সাদা¯্রাব হওয়ার জন্য সাধারণত দুটি কারণকে দায়ী করতে পারি। যেমন:- সহজাত শারীরবৃত্তীর ও রোগজনিত কারণ। নিন্মে বর্ণিত অবস্থাগুলো এ রোগের কারণ হতে:-

সাদা¯্রাবের পরিমাণ নির্ভর করে ডিম্বস্ফুটন, মানসিক চাপ, মাসিক চক্রে পরিবর্তনের উপর। জন্মসনের পর মায়ের কাছ হতে ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে মেয়ে শিশুর মধ্যে সাদা¯্রাব হতে পারে।


  • যৌবনকালে রক্ত চলাচল বেড়ে যাওয়ার ফলে হরমোনের প্রভাবে- সাদা¯্রাব হতে পারে।
  • সন্তান জন্মের প্রথম কয়েকদিন, ডিম্বানু নিঃসরনের সময়ে সাদা¯্রাব হতে পারে।
  • যোনীদ্বারের কোন প্রদাহের কারণে সাদা¯্রাব হতে পারে।
  • স্বাস্থহীনতা, অপুষ্টি, অসুখী দাম্পত্যজীবন এবং কিছু মানসিক অসুস্থতার কারণে হতে পারে।
  • জন্মবিরতিকরণ পিল গ্রহণ, কপারটি, রিংপেসাজ ইত্যাদির কারণে হতে পারে।
  • ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্যারাসাইট প্রদাহের ফলে হতে পারে।
  • এন্টিবায়োটিক ব্যাপক ব্যবহারের ফলে হতে পারে।
  • রক্তশুন্যতা, যক্ষ্মা, দীর্ঘকালীন কিডনী রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, পেটের অসুখ, ডিম্বাশয়ের নিঃস্বরণ অভাবের ফলে হতে পারে।
  • অপরিস্কার, অনিয়ন্ত্রিত ও জীবনযাপন, কৃমির সমস্যার ফলে হতে পারে।
  • ভিটামিন, আয়রণ, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ইত্যাদির অভাবের ফলে হতে পারে।
  • যোনীরমুখে দীর্ঘকাল প্রদাহ ও ক্ষয় থেকে অতিরিক্ত সাদা¯্রাব হতে পারে।


লক্ষণ

জীবাণুঘটিত সাদা¯্রাব ও তার লক্ষণ:-

প্রধান যে জীবাণুগুলো সাদা¯্রাবের জন্য দায়ী তা হলো ট্রাইকোমোনাস ভ্যাজিনালিস, ক্যানডিডা এলবিকাসন, নাইসেরিয়া গনোরি, গার্ডিনিরিলা ভ্যাজাইনালিস অন্যতম। এসব জীবাণু দ্বারা সাদা¯্রাব হলে নি¤েœাক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়:-

প্রচুর সাদা¯্রাব নিঃসরণ, ¯্রাবে দূর্গন্ধ হওয়া, যৌনাঙ্গে চুলকানী এবং সাথে জ্বর ও থাকতে পারে।

দীর্ঘদিন থাকলে তা পরবর্তী কালে কোমড়ব্যথা, তলপেট ব্যথা পীঠ ব্যথা বা যোনীতে ব্যথা হতে পারে।


ট্রাইকোমোনাস জীবাণুঘটিত সাদা¯্রাব ও তার লক্ষণ:

এ সমস্যা মেয়েদের যৌবনকাল, গর্ভকালীন সময় ও মোনোপজের সময় হয়ে থাকে। জীবানু শরীরে প্রবেশে ৪-১২ দিনের মধ্যে রোগের উপসর্গ প্রকাশ পায়। এ সময় নি¤েœাক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়:-

যোনির নিঃসরণ পাতলা থেকে শুরু করে হলুদ রংয়ের হতে পারে।

কখনো সবুজ রংয়ের রস ক্ষরণ, কখনো বেশী পরিমানে সাদা¯্রাব বা ক্রিম রংয়ের হতে পারে।

যোনিপথে চুলকানী, তলপেটের ব্যথা, ঘন ঘন প্র¯্রাব হওয়া, এবং প্র¯্রাবে জ্বালা হতে পারে।


ক্যানডিডা জীবাণুঘটিত সাদা¯্রাব ও তার লক্ষণ:

ক্যানডিডা জীবাণুর ফলে সাদা¯্রাবে অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না। যাদের থাকে তাদের যোনী হতে সাদা¯্রাব বা অন্য রংয়ের ¯্রাব নিঃসরণ, যোনিপথে চুলকানী, প্র¯্রাবের সময় চুলকানী, সহবাসের সময় ব্যথা ইত্যাদি।


গনোরিয়া জীবাণুঘটিত সাদা¯্রাব ও তার লক্ষণ:

যোনীপথ থেকে অধিক সাদা¯্রাব নিঃসরণে জরায়ু গ্রীবা ও বার্থোলিন গ্রহির প্রদাহ দেখা দেয়।



ফেলোপিয়ন টিউব প্রদাহ হয়ে অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

বারবার প্র¯্রাব ত্যাগের ইচ্ছা, প্র¯্রাব দ্বারে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হতে পারে।


রোগ নির্ণয়

যোনীপথ ও যোনীমুখ হতে রস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। মুত্র পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা দ্বারা সংক্রমনের মাত্রা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। তবে রোগের লক্ষণগুলো সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


চিকিৎসা

এক্ষেত্রে অন্যান্য যৌন রোগের মতো স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই চিকিৎসা নিতে হবে। যদি কোন রোগ ছাড়াই হয় তাহলে রোগীকে বোঝাতে হবে এবং আশ্বস্ত করতে হবে। রোগীকে মানসিকভাবে সাহায্য করতে হবে। কোন রোগের জন্য হলে, বা কোন কারণে হলে যে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। অতিরিক্ত যৌনসম্ভোগ পরিহার করতে হবে। সাদা¯্রাবের সমস্যায় হোমিওপ্যাথিতেও চিকিৎসা আছে।


পরামর্শ

  • সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
  • খাবার তালিকার প্রচুর শাকসবজী, ফলমুল থাকতে হবে।
  • সঠিক সময়ে খাদ্যগ্রহণ, ঘুম, বিশ্রাম নিতে হবে।
  • পায়খানা কোষ্টকাঠিন্য হলে তা দুর করতে হবে।
  • কুসুম গরম পানিতে এক চিমটা লবণ মিশ্রিত করে প্রত্যহ যোনীমুখ পরিস্কার করতে হবে।
  • কোন সুগন্ধী স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না।
  • কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করতে হবে।
  • সাদা¯্রাবের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে চিকিৎসা নিতে হবে। এতে জটিলতার হাত হতে রক্ষা পাওয়া যাবে।


No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.