Header Ads

Header ADS

কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী তহবিলে জমা ২০ কোটি ডলার

 মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো একশ’ দিন বাকি। তারপরও মাঠ চাঙ্গা করতে প্রায় প্রতিদিনই সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এর মধ্যেই কমলা হ্যারিসের সমর্থকদের জন্য একটি সুখবর এসেছে।



রবিবার তার প্রচার শিবির জানায়, মাত্র সাত দিনে কমলার নির্বাচনী তহবিলে জমা পড়েছে অন্তত ২০ কোটি ডলার। তার প্রচার দলের উপব্যবস্থাপক রব প্ল্যাহার্টি এক্সে দেওয়া একে পোস্টে বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ ধরে প্রচার শুরু করেছি। এর মধ্যে কমলা হ্যারিস ২০ কোটি ডলার তুলে ফেলেছেন। দাতাদের ৬৬ শতাংশই নতুন। আমরা ১৭ হাজার নতুন স্বেচ্ছাসেবীর সই পেয়েছি।’ শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা এবং সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো প্রভাবশালী নেতারা কমলা হ্যারিসকে সমর্থনের কথা জানান।


৫৯ বছর বয়সী কমলার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে আগামী আগস্টে অনলাইনে ভোট হবে। এরপর দলের পক্ষ থেকে এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তবে রবিবার প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জনপ্রিয়তায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন কমলা। ইউরোপেও বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা। খবর বিবিসি ও এএফপির।  

এদিকে কমলা হ্যারিসকেই পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বিতর্কিত সাহিত্যিক সালমান রুশদি। মুম্বাইয়ে এক কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারে জন্ম রুশদির। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই নাগরিকত্ব রয়েছে তার। রবিবার কমলার সমর্থনে দক্ষিণ এশীয়দের এক আলোচনাচক্রে নিজের মত প্রকাশ করেন রুশদি। তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমি বম্বেতে বেড়ে উঠেছি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কোনো নারী হোয়াইট হাউস পরিচালনা করবেন, এমন ঘটনার সাক্ষী থাকা দারুণ অভিজ্ঞতা।


আমার স্ত্রীও আফ্রো-আমেরিকান। আমরা চাই, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কোনো মহিলা হোয়াইট হাউসে আসুন। এবারের নির্বাচনে কমলা ছাড়াও আরেক ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে নিয়ে চর্চা চলছে। রিপাবলিকান শিবিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেডি ভান্সের স্ত্রী ঊষা ভান্স। তবে রুশদি জানান, কমলার জন্য তারা সমবেত হলেও ঊষার ক্ষেত্রে তা হবে না। কেন? সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নিজেই। রুশদির কথায়, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন রাজনীতিতে এক অসাধারণ পরিবর্তন এসেছে।


কমলার নাম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে উঠে আসার পর থেকেই আলোচনার ভরকেন্দ্র বদলে গিয়েছে। এই পরিবর্তন এগিয়ে থাকা চিন্তাধারার প্রতিফলন। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সমালোচনা করেন রুশদি। টিএস এলিয়টের কবিতার দিকে ইঙ্গিত রেখেই সম্ভবত রুশদি বলেন, ট্রাম্প হলেন এক জন ‘ফাঁপা মানুষ’। যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কর্তৃত্ববাদের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ট্রাম্প ও কমলার তুলনা টেনে তিনি বলেন, এখন যা পরিস্থিতি, ট্রাম্পকে কোনো দিক থেকে তারকা বলে মনে হচ্ছে না। তিনি এক জন মোটা, বৃদ্ধ মানুষ।


আর কমলাকে দেখতে সুপারস্টারের মতো লাগছে। তার মধ্যে এক অনন্যসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। তবে নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা আদৌ কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন তা নিয়েও চর্চা রয়েছে। যদিও রুশদির মতে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতা নিয়ে ধ্যান-ধারণা বর্তমান সময়ে অনেক বদলেছে। কমলার না জেতার কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছেন তিনি। এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফরমে সই করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন কমলা হ্যারিস।


শুক্রবার তিনি ফরমে সই করেন। এরপর এক্সে পোস্ট দেওয়া এক বার্তায় কমলা বলেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। প্রতিটি ভোট আদায়ে আমি কঠোর পরিশ্রম করব। কমলা বলেন, ফরমে সই করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য আমার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি। জনগণের ভোটে আমরা জয়ের মুখ দেখবই। এই নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।




No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.