Header Ads

Header ADS

শিক্ষার্থীদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ব

 দেশে হঠাৎই বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় করোনাময় সময়ের মতো সবাই প্রায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিলাম। তবে এবার ছিল না কোনো ইন্টারনেট সংযোগ। অনেকটা যেন অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিলাম। শাটডাউন, সহিংসতা, কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ- সব মিলিয়ে এক রকম আতঙ্কগ্রস্তই হয়ে পড়েছিল সবাই।



হঠাৎ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা ছিল। আর বোর্ড পরীক্ষাসহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অনির্দিষ্টকালের জন্য সব বন্ধ হওয়ায় তারা পড়ালেখা থেকে দূরে চলে এসেছে। কারও মাঝে হতাশাও বাসা বেঁধেছে। এ থেকে একমাত্র পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরাই পারেন তাদের স্বাভাবিক রাখতে। অন্তত একবেলা হলেও যেন তারা বই নিয়ে বসে, সেদিকে বড়দের খেয়াল রাখতে হবে। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেবে, স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষাগুলোও শুরু হয়ে যাবে। তখন যেন তাদের হিমশিম খেতে না হয়। তাই তাদের পড়ার টেবিলে বসার জন্য অনুপ্রাণিত করুন। নেতিবাচক খবরগুলো থেকে তাদের দূরে রাখুন। না হয় তারা আরও অস্থির হয়ে উঠবে। প্রয়োজনে তাদের পড়তে বসিয়ে আপনিও পাশে বসুন। তাতে হয়তো তারা ভরসা পাবে, গল্পের তালে পড়াটাও তৈরি হয়ে যাবে। ধীরে ধীরে তাদের পড়ায় মন বসবে। কিভাবে পড়ায় মনোযোগ দেওয়া যায় প্রয়োজনে সে বিষয়ে তাদের মোটিভেশন করুন। যে বিষয়টি বা যে অধ্যায়টি তাদের কাছে তুলনামূলক সহজ মনে হয়, সে বিষয়টি নিয়েই আগে বসতে বলুন। তাতে মনোসংযোগ করা সহজ হবে।


মানসিক চাপ আর আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বড়রাই পারেন তাদের সহযোগিতা করতে। সবাই একসঙ্গে বসে আড্ডা দিন। মজার মজার গল্প বলুন। যখন মোবাইল-ইন্টারনেট ছিল না, তখন কিভাবে সময় কাটিয়েছেন, সেগুলো তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। দিনের একটা সময় পছন্দের গল্পের বই পড়তে দিন। পড়ার পাশাপাশি অন্য কোনো কাজে তাদের মনোনিবেশ করান।



যারা আঁকতে পছন্দ করে, গান গাইতে পছন্দ করে, তাদের সেসব কাজে অনুপ্রাণিত করুন। আমরা বড়রাও এই পরিস্থিতিতে অনেকটা মানসিক চাপে আছি। তাদের সঙ্গে নিজেদেরও মোটিভেশন দরকার। আপনি নিজেও সন্তানের সঙ্গে একটি বই নিয়ে বসুন। গান শুনুন। গান মনকে খুব সহজে পরিবর্তন করে। নামাজ পড়ুন, তাদেরও নামাজ পড়তে উৎসাহিত করুন। নামাজ মনে প্রশান্তি এনে দেয়। তাই নিজে অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসুন, ছোটদেরও তাতে সাহায্য করুন। সন্ধ্যায় অন্তত ২ ঘণ্টার জন্য শিক্ষার্থীদের পড়তে বসিয়ে, আপনিও তাদের পাশে থাকুন। দেখবেন তারাও পড়ায় মনোযোগী হবে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.