ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পথে পথে বিক্ষোভ
ভেনেজুয়েলায় সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে নির্বাচনি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রাস্তায় নেমে এসেছেন বিক্ষোভকারীরা। নিকোলাস মাদুরো নিজেকে প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী দাবির পরদিনই ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের দমনে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়েছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ কারাকাসের রাস্তায় নেমে আসে, কেউ কেউ শহরের চারপাশের পাহাড়ি এলাকা কিংবা বস্তি থেকে কয়েক মাইল পথ হেঁটে রওয়ানা দেন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।
নির্বাচনের পর মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কাউন্সিল (সিএনই)। নির্বাচনে তিনি ৫১ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে দাবি করেন সিএনই প্রধান এলভিস আমোরোসো। বিরোধী দল মি. মাদুরোর বিজয়ের ঘোষণাকে জালিয়াতি বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস অন্তত ৭৩ দশমিক দুই শতাংশ ভোট পেয়ে নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপেও স্পষ্ট জয়ের আভাস ছিল বিরোধী পক্ষের।
বিবিসি জানায়, বিক্ষোভকারীরা ফ্যালকন রাজ্যে মাদুরোর পূর্বসূরি হুগো শ্যাভেজের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলে। কারাকাসের অন্যতম দরিদ্র অংশ পেটারে এলাকার বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সেøাগান দেয়। এ সময় কিছু মুখোশধারী যুবক ল্যাম্পপোস্ট থেকে মাদুরোর প্রচারের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে শহরজুড়ে প্রচুর পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদুরোপন্থি আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর খবরও পাওয়া গেছে।
গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো। ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন তিনি। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশটির অর্থনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। যা নিয়ে দেশে অসন্তোষও তৈরি হয়। পরে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মি. গঞ্জালেসের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো একত্রিত হয়েছিল।
এদিকে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ভোটের কেন্দ্রভিত্তিক রেকর্ড প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। কারচুপির অভিযোগ এনে নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কর্মকর্তারা। ওই ব্রিফিংয়ে নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা তাদের এ অবস্থান ব্যক্ত করেন।
No comments
ধন্যবাদ।