Header Ads

Header ADS

দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকট

 ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন ও শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। 


রাজধানীর অনেক এলাকায় বাসবাড়িতে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে নগরবাসীকে বৈদ্যুতিক চুলা ও লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্নার কাজ সারতে হচ্ছে। নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাচ্ছে না যানবাহন। এ কারণে সড়কে কমে গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল। সিএনজি স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশেনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর যুগান্তরকে বলেন, যেখানে একটি সিএনজি স্টেশনের গ্যাস চাপ লাগে ১৫ থেকে ১৭ পিএসআই সেখানে এখন চাপ থাকছে মাত্র ২ থেকে ৩ পিএসআই। যার কারণে যানবাহনে ৫০-৬০ টাকার বেশি গ্যাস ঢুকছে না। তাতেও দীর্ঘ সময় লাগছে। এই অবস্থায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলো। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার যুগান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সামিটের এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ আছে। এটি কবে চালু হবে বলা যাচ্ছে না। যার কারণে গ্যাস সরবরাহ অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি গ্যাস সিস্টেমে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে যারা নিতে পারছে তাদের সংকট নেই। আর যারা নিতে পারছে না তাদের সংকট চলছে।


সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গ্যাস সঞ্চালন লাইন থেকে দূরবর্তী শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ থাকে না। বিশেষ করে গাজীপুর, কোনাবাড়ি, কাশিমপুরসহ এসব এলাকায় গ্যাসের চাপ অনেক কমে গেছে। একইভাবে পাইপলাইন থেকে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলো অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গ্যাস আসতে আসতে চাপ থাকে না। এই অবস্থা থেকে কবে পরিত্রাণ পাবে তাও বলতে পারছে না পেট্রোবাংলা।


শিল্প মালিকরা বলছেন, শ্রমিকরা কারখানায় আসছেন ঠিকই কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে কাজ করতে পারছেন না। এতে তারা পড়েছেন মহাবিপদে। প্রতিদিন তাদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। কারখানার মালিকরা বলছেন, বয়লার চালানোর জন্য প্রতি ঘনফুটে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ থাকা দরকার। কিন্তু অনেক কারখানায় চাপ কমে প্রতি ঘনফুটে ১ থেকে ২ পিএসআইতে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও শূন্যে নেমেছে। তারা বলেন, একদিকে ডলার ক্রাইসিস অপরদিকে গ্যাস সংকট চলতে থাকলে এ সেক্টরে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।


দেশে এ মুহূর্তে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল আছে দুটি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত টার্মিনাল দুটির মধ্যে একটি স্থাপন করেছে সামিট গ্রুপ। আরেকটি স্থাপন করেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দুটি টার্মিনালের প্রতিটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার। আর এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত দৈনিক সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্থানীয় সরবরাহ ও এফএসআরইউ দুটি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় এলএনজি সরবরাহের পরও জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এ অবস্থায় কোনো কারণে একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হলে গোটা দেশেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, শিল্প ও সিএনজি খাতের মধ্যে গ্যাস রেশনিং করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয় পেট্রোবাংলাকে।


জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২৭ মে সাগরে ভাসতে থাকা ভাঙা একটি পন্টুনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ) ব্যালাস্ট ট্যাংক।


বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

ভাসমান টার্মিনাল পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট সরকারি দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্যোগের কারণে ভাসমান টার্মিনাল দুটি বছরে গড়ে ২০-২৫ দিন বন্ধ থাকার কথা। টার্মিনাল নির্মাণকালে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, এর বাইরেও প্রতি ৫ বছর পর সংস্কারের জন্য টার্মিনালগুলো ড্রাই ডকিংয়ে নিতে হবে। এতে সময় প্রয়োজন অতিরিক্ত আরও দেড় মাস।


আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামিটের টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে সেটি এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। টেকনিক্যাল এক্সপার্টরা একটি রিপোর্ট দিয়েছেন। সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত পেলে কবে নাগাদ চালু হবে সেটি জানা যাবে। ঘূর্ণিঝড়ে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম। এর আগেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে।’



No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.