মন পরিবর্তনের মুহূর্তগুলো
অতিচিন্তা বন্ধ করুন। আপনার মনকে নেতিবাচক চিন্তা এবং আত্ম সংশয়ের খোরাক দেয়ার ইতি ঘটান। নিজেকে যথেষ্টভাবে ভালোবাসুন এবং মনে রাখবেন, সর্বশক্তিমান আপনার জন্য কেবল সেরাটিই চান।
আপনার সাফল্যের ছবিগুলো শেয়ার করতে খুব বেশি তাড়াহুড়া করবেন না। অনেকে এটি পছন্দ করেন না এবং সম্ভবত তা হিংসারও সৃষ্টি করে। বিনীত হোন এবং প্রদর্শনকেন্দ্রীকতা এড়িয়ে চলুন।
শয়তান সবসময় চায় যে আপনি হতাশ এবং পরাজিত বোধ করেন। এ ধরনের অনুভূতি পরিত্যাগ করুন। নিজেকে তুলে ধরুন। সর্বশক্তিমানের দিকে ফিরে যান এবং তাঁর পথে চলুন।
জীবনে আপনার যে অবস্থানই থাকুক না কেন, বিনীত হোন। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। যিনি আপনার উত্থান ঘটান তিনি সর্বশক্তিমান, আপনার চারপাশের মানুষ নয়!
কোনো ব্যক্তিরই নিখুঁত অতীত নেই। আমরা সবাই পাপ করি। সুতরাং আপনার এবং সর্বশক্তিমানের মধ্যে এটিকে বাধা হয়ে আসতে দেবেন না। তিনি ক্ষমা করার জন্য অপেক্ষায় আছেন। আপনি যখন প্রার্থনা করেন এবং অনুতাপ করেন আর তাঁর ওপর নির্ভর করেন তখন তিনি সেটি পছন্দ করেন। তিনি আমাদের পালনকর্তা। তিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা!
অনুতপ্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। শয়তানের ফিসফিসানি শুনবেন না। আপনার ছোট ছোট পাপকে অনুশোচিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে পাপের সাগর বানাবেন না। এটি বোকামি, কারণ সর্বশক্তিমান সর্বদা তাঁর পথে আপনাকে স্বাগত জানাতে তৈরি থাকেন। আপনাকে কেবল তাঁর সাথেই যোগাযোগ করতে হবে। তার কাছেই প্রার্থনা করুন, বিনীতভাবে।
মৃত্যু যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে। আপনি স্বাস্থ্যবান অথবা ধনী কি না তা বিবেচ্য নয়, সময় যদি হয়ে যায় আপনাকে যেতেই হবে। আপনি এটিকে চ্যালেঞ্জ করবেন অথবা এড়িয়ে যাবেন, তার কোনো সুযোগ পাবেন না!
মানুষ এবং অন্য কিছুর সাথে খুব বেশি মাত্রায় সংযুক্ত করবেন না নিজেকে। কোনো কিছুই টিকে থাকে না। এমনকি আমাদের সমস্যা ও উদ্বেগও স্থায়ী নয়। পরকালের কথা ভাবুন। আপনি প্রশান্তি পাবেন।
আপনি কতটা পাপ করেছেন তার বিবেচনা থেকে অপরাধবোধে ভোগে সর্বশক্তিমানকে স্মরণ করা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেবেন না। তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।
আপনার হৃদয় কতটা ব্যথিত হলো এবং মন কতটা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সেটি কোনো বিষয় নয়, আপনার যদি সর্বশক্তিমানের প্রতি বিশ্বাস থাকে তবে আপনি বেঁচে থাকবেন। কষ্ট-ব্যথা-বেদনা কোনো কিছুই টিকে থাকে না।
সর্বশক্তিমান, আমাদের অন্তরকে নরম রাখুন এবং কঠোরতা থেকে এটিকে রক্ষা করুন। আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আমাদের ধন্য করুন, আমরা যদি কোনো পাপ করেও ফেলি, তখনই আমরা যেন অনুতপ্ত হই; তার অনুভূতি জাগিয়ে রাখুন!
আমরা প্রায়ই আমাদের ভাঙা হৃদয় মানুষের কাছে নিয়ে যাই, তাদের সামনে আমাদের সমস্যাগুলো প্রকাশ করি, এটি কেবল আমাদের আঘাতকে আরো বাড়িয়ে তুলে। যিনি হৃদয়ের নিরাময় করতে পারবেন, তাঁর ওপরই নির্ভর করুন।
আপনি কি মাঝে মধ্যে এটি অনুভব করেন যে, সবাই আপনাকে হতাশ করছে? সর্বশক্তিমান আসলে আপনার জীবনে এমন লোককে নিয়ে এসেছেন, আপনাকে এটি শেখাতে যে কেবল তাঁর ওপরই নির্ভর করতে হবে।
আপনি যে অবস্থার মধ্যে যাচ্ছেন, এ ধরনের অবস্থা যতক্ষণ না অন্য কারো না ঘটে ততক্ষণ কেউ বুঝতে পারবে না আপনার সত্যিকারের পরিস্থিতি কী । অতএব সব কিছু যিনি জানেন তাঁর ওপর নির্ভর করুন।
আপনার দিনগুলো যতটাই খারাপ যাক না কেন, অন্যের সাথে খারাপ ব্যবহার করার কোনো অজুহাত এটি হতে পারে না। তেমন কিছু হলে নিজেকে এখনই পরীক্ষা করুন, কারণ এটি ভুল এবং তা বন্ধ হওয়া দরকার। অন্য কারো কষ্ট ও দুর্দশার কারণ হবেন না। আরো ভালো মানুষ হোন এবং সর্বদায় অন্যের সাথে এমন আচরণ করুন, যে আচরণ আপনি নিজে অন্যের কাছে কামনা করেন।
আপনি যত বেশি সফল হবেন, আপনার তত বেশি নম্র হওয়া উচিত। আপনার মহানত্বকে প্রদর্শন করার চেষ্টা করবেন না, কারণ মহানতা একমাত্র সর্বশক্তিমানের বিষয়। এর স্বীকৃতি দিন। তাঁর কাছে নিজেকে সমর্পণ করুন এবং নম্রতা প্রদর্শন করুন। আপনি তাঁর নিকটবর্তী হবেন এবং তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করবেন!
নিজেকে সর্বদায় আপনার জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিন। কখনো কোনো সমীকরণেই সর্বশক্তিমানকে দূরে রাখবেন না। আর বারবার মৃত্যুর কথা স্মরণ করুন। এটি আপনাকে বিনীত করবে। এটি আপনার হৃদয়কে নরম করবে। এটি আপনাকে পার্থিব বিষয়ে দুঃখ না নেয়ার বিষয় স্মরণ করিয়ে দেবে। মনে রাখবেন, এই জীবনটি অস্থায়ী। এটি শেষ হয়ে যাবে!
সর্বদায় আপনার দিনটি শুরু করুন প্রার্থনা দিয়ে। এটি আপনাকে সঠিক পথে চালিত করবে এবং ঘটতে পারে এমন অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলোর সাথে আপনাকে আরো ভালোভাবে মোকাবেলা করতে সহায়তা করবে। আর প্রার্থনা দিয়ে দিনের শেষ করতেও ভুলবেন না, কারণ আপনি আর কোনো দিন জাগ্রত হবেন কি না, তা কেউ জানে না।
No comments
ধন্যবাদ।