Header Ads

Header ADS

কীভাবে করবেন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং?

 সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী সে সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে জানবো।



বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত কোনো নাগরিক, সকলেই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। এটি হলো এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনি সব বয়সের, সব রকম পছন্দের গ্রাহক পাবেন। আপনার পণ্য বা সেবার প্রচার-প্রচারণার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যেমন :


ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আপনার পণ্য বা সেবার প্রচারণা করা যায়৷  

বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংই সবচেয়ে ভালো বিকল্প। 

পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ব্যবহার করলে বা নিজে একটু গবেষণা করলে, সহজেই টার্গেট কাস্টমার খুঁজে বের করা যায়। 

বিশ্বের অসংখ্য মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বলে, এখান থেকে সহজেই ভোক্তা এবং ক্রেতা পাওয়া যায়। 

অন্যান্য মার্কেটিংগুলোর তুলনায় এটিতে কম সময়ে অনেক বেশি গ্রাহককে পণ্য বা সেবার কথা জানানো যায়। 

কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেসে আপনার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আপনি মার্কেটিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকতে পারবেন, এতে আপনার ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে।

এরকম আরো অসংখ্য কারণে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং খুবই জরুরী হয়ে পরেছে।



কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা জানলাম। এখন আমরা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কীভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে জানবো। বর্তমান বিশ্বে অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে। তন্মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো :


  • ফেসবুক(Facebook)
  • টুইটার(Twitter)
  • লিংকেডিন(LinkedIn)
  • পিন্টারেস্ট(Pinterest)
  • ইন্সটাগ্রাম(Instagram)
  • ইউটিউব(YouTube)
  • টাম্বলার(Tumbler)
  • ফ্লিকার(Flicker)
  • রেডিট(Reddit)
  • কোরা(Quora) 

এই মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা যায় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :


  • ফেসবুক মার্কেটিং

ফেসবুকের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং মূলত ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেইজ এবং গ্রুপ এই তিনভাবে করা তবে আপনি যদি প্রোফেশনাল বা পেশাদারভাবে আপনার ব্যবসা, পণ্য বা সেবার প্রচারণা কর‍তে চান, সেক্ষেত্রে আপনার উচিত ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে শুরু করা। যদিও অনেকেই গ্রুপ খুলে সেখান থেকে শুরু করতে চান। কিন্তু আপনি গ্রুপে পেইড এডভার্টাইজিং বা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রে আপনি কেবলমাত্র অর্গানিক মার্কেটিংই করতে পারবেন। তাই আমাদের পরামর্শ থাকবে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে মার্কেটিং শুরু করার।


ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে একটি ফেসবুক পেইজ তৈরি করতে হবে আপনার ব্যবসার জন্য। সেখানে আপনার ব্যবসা, পণ্য বা সেবার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকতে হবে। তাছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে গ্রাহক আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য আপনার কন্টাক্ট নাম্বার দিয়ে রাখবেন এবং খুদে বার্তা পাঠানোর সুযোগ রাখবেন। গ্রাহকের সমস্ত জিজ্ঞাসার যাতে ঠিক মতো উত্তর দেওয়া যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


এরপর আপনি আপনার পেইজ থেকে আপনার টার্গেট অডিয়েন্সদের লক্ষ্য করে প্রচার-প্রচারণা করা শুরু করুন। পেইজের রিচ বাড়াতে বা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনি পেইজ বুস্ট করতে পারেন। এর জন্য ফেসবুককে আপনার কিছুটা অর্থ দিতে হবে। বিনিময়ে ফেসবুক আপনার ব্যবসায়িক পেইজটিকে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিবে।


লক্ষ্য রাখবেন, আপনার মার্কেটিংটি যাতে আকর্ষণীয় এবং উপস্থাপনা যাতে সুন্দর হয়। আর আপনার প্রচারণামূলক পোস্টগুলো বেশি বেশি শেয়ার করবেন। লক্ষ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। আপনি যদি আপনার প্রচার-প্রচারণা ভালো মতো করতে পারেন এবং সেগুলো যদি বেশি বেশি শেয়ার হয়, তাহলে কম সময়ের মাঝেই অসংখ্য মানুষের কাছে তা পৌঁছে যাবে। তাছাড়া মানুষের সেটা পছন্দ হলে নিজেই তা শেয়ার করে আরো অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দিবে।


তাছাড়া ফেসবুকে আপনার ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সংক্রান্ত অনেকগুলো গ্রুপ পাবেন৷ আপনি সেখানেও আপনার প্রচারণা চালাতে পারেন। ঐ গ্রুপগুলোর প্রায় সকলেই ঐ পণ্য বা সেবার টার্গেট কাস্টমার হওয়ায় সেখানে আপনার পণ্য বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।


আপনার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও আপনার পেইজের প্রচারণামূলক পোস্টগুলো বেশি বেশি শেয়ার করবেন৷ এবং আপনার ফেসবুক থাকা বন্ধুদেরও তা শেয়ার করতে উৎসাহিত করবেন। যত বেশি শেয়ার হবে, তত বেশি মানুষ আপনার ব্যবসা ও সেবা সম্পর্কে জানবে। এভাবে ফেসবুক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কাছে আপনার ব্যবসা, পণ্য ও সেবার কথা ছড়িয়ে যাবে।


  • টুইটার মার্কেটিং

বর্তমান সময়ে ফেসবুকের মতো আরেকটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হলো টুইটার। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মার্কেটিং করতে চান সেক্ষেত্রে আপনি টুইটার ব্যবহার করে সহজেই তা করতে পারেন৷


মূলত বাংলাদেশের মানুষের চেয়ে অন্যান্য দেশের মানুষজনই টুইটার বেশি ব্যবহার করে থাকে, বিশেষ করে আমেরিকা, জাপান, তুরস্ক ও ভারতের মানুষ। তাই আপনার টার্গেট কাস্টমার যদি ঐ সমস্ত দেশের মানুষজন হয়ে থাকে, তাহলে আপনি টুইটারকে আপনার মার্কেটিংয়ের প্লাটফর্ম হিসেবে বেছে নিতে পারেন৷


  • লিংকডইন মার্কেটিং

লিংকেডিন হয়তো ফেসবুকের মতো এতোটা জনপ্রিয় নয়, তবে তাদেরও প্রায় ৭৭৪ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। বিগত ১৮ বছর ধরে তারা তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। লিংকেডিনে আপনাকে খুবই পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে৷ সাধারণত আমরা ব্লগে যেভাবে লিখি, লিংকেডিনেও সেভাবে লিখলে হবেনা৷ এখানে আপনাকে আপনার পেশাদারিত্ব বজায় রেখে আপনার বিষয়টি উপস্থাপন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি একটি প্রফেশনাল জব(ঔড়ন) মার্কেটপ্লেস। তাই সবকিছুতে যাতে পেশাদারিত্ব বজায় থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


তারা সবসময় জানতে চায় ব্যবসায়িক শিল্পে নতুন কী এসেছে, সেটি কীভাবে কাজ করে ইত্যাদি। যদি আপনার কন্টেন্ট মানুষকে সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে সহযোগিতা করে, তাহলেই কেবল লিংকেডিন আপনাকে প্রাধান্য দিবে। অন্যথায় আপনাকে অন্য প্লাটফর্মগুলোর আশ্রয় নিতে হবে৷


পৃথিবীর লক্ষ কোটি মানুষ লিংকেডিন ব্যবহার করে। আপনি যদি আপনার ব্যবসাকে তাদের সামনে আকর্ষণীয় উপায়ে পেশাদারিত্বের সহিত উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে তারা আপনার ব্যবসার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। মূলত আপনার ব্যবসা যদি ঐ প্লাটফর্মে থাকা মানুষদের উপযোগী হয়, তাহলে এই ক্ষেত্রে খুব সহজেই ব্যবসায়িক সংযোগ এবং টার্গেট অডিয়েন্স বৃদ্ধি করা যায়৷


আপনার ব্যবসা যদি বি-টু-বি(ই২ই) বা বিজনেস-টু-বিজনেস ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে লিংকেডিনই হতে পারে আপনার প্রচার-প্রচারণার সেরা মাধ্যমে। কারণ বি-টু-বি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি অন্যতম খ্যাতিসম্পন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। এমনকি লিড জেনারেশনের জন্যও এটি অনেক কার্যকরী একটি মাধ্যম।


অর্থাৎ, আপনি যদি আপনার ব্যবসা, পণ্য ও সেগুলোর মার্কেটিং কৌশল দ্বারা এই প্লাটফর্মে থাকা মানুষদের মন জয় করে নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে এখান থেকে আপনি গ্রাহকের ভালো সাড়া পেতে পারেন।


  • পিন্টারেস্ট(Pinterest) মার্কেটিং

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পিন্টারেস্ট মার্কেটিং। পিন্টারেস্ট মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে৷ যেমন :


  • আপনার পণ্য ও সেবার ছবি ও ভিডিও কন্টেন্ট পিন্টারেস্টে প্রকাশ বা আপলোড করুন৷
  • প্রত্যেকটি কন্টেন্টের জন্য আলাদা বোর্ড তৈরি এবং তা পিন করে রাখুন। 
  • সবগুলো বোর্ড বা পিন আপনার ভিজিটরদের সাথে শেয়ার করুন৷ 
  • আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক এবং পণ্য বিক্রি বাড়াতে বেশি বেশি পিন করুন কারণ আপনি যত বেশি পিন করবেন তত বেশি মানুষ সেটা সম্পর্কে জানবে এবং আপনার পণ্যের প্রচার হবে৷

  • ইউটিউব মার্কেটিং

ইউটিউব হলো মার্কেটিংয়ের এমন একটি মাধ্যম যা আপনার কাজ অনেকটাই সহজ করে দেয়৷ সমীক্ষা মতে, বর্তমানে ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ইউটিউবের স্থান দ্বিতীয়। আজকাল মানুষ তাদের যেকোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে সবার আগে ইউটিউবেই সার্চ করে। কারণ ইউটিউবে সবরকম কন্টেন্টই ভিডিও আকারে থাকে৷ আর আপনি যখন ভিডিও দেখে কিছু শিখতে বা জানতে চান তখন সেটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে আসে, কারণ আপনি সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচক্ষে দেখতে পারছেন৷


ইউটিউবের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে প্রথমে আপনার ব্যবসার জন্য ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলতে হবে৷ তারপর আপনি আপনার ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা সেবা সংক্রান্ত ভিডিও কন্টেন্ট বানানো শুরু করুন৷ তারপর সেগুলো আপনার চ্যানেলে আপলোড দিয়ে সহজেই আপনি আপনার প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন৷ ভিডিও কোয়ালিটি যাতে ভালো হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে৷


আপনার প্রচার-প্রচারণা যাতে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে হবে। সাবস্ক্রাইবার যত বেশি বাড়বে, তত বেশি মানুষ আপনার ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা সেবার কথা জানবে৷ আর আপনার মার্কেটিং মানুষের পছন্দ হলে তারা তাদের পরিচিতজনদেরও আপনার চ্যানেলের কথা জানাবে৷ এভাবে ধীরে ধীরে অসংখ্য মানুষের কাছে আপনার পণ্য বা সেবা পৌঁছে যাবে এবং পণ্য বিক্রিও বাড়বে।


অনেক সুপরিচিত ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যাদের অসংখ্য সাবস্কাইবার রয়েছে৷ আপনি যদি তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তাদের চ্যানেলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল, ব্যবসা এবং সেবার কথা জানাতে পারেন, তাহলে তাদের সব সাবস্ক্রাইবার আপনার সেবার কথা জানতে পারবে৷ এই সুপরিচিত চ্যানেলগুলোকে মানুষ অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই সেই সাবস্ক্রাইবাররাও তখন আপনার পণ্য বা সেবার প্রতি কৌতুহল বোধ করবে৷


আর তারা যখন আপনার চ্যানেল ঘুরে আপনার পণ্য বা সেবার মার্কেটিং পছন্দ করবে, তখন তারাও আপনার গ্রাহকে পরিণত হতে পারে। কিন্তু, এই সুযোগ সুবিধাগুলোর জন্য আপনার ঐ ইউটিউব চ্যানেলগুলোকে কিছুটা অর্থ দিতে হবে। তবে, একই সাথে আপনি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আপনার সেবার কথাও জানাতে পারছেন।


ইউটিউব মার্কেটিংয়ের একটি সুবিধা হচ্ছে আপনি যখন ইউটিউবে আপনার পণ্য বা সেবা সংক্রান্ত কোনো ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করবেন, সেই ভিডিওটি যতদিন পর্যন্ত ইউটিউবে থাকবে, ততদিন মানুষ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে। তাছাড়া দিনে দিনে আপনার ভিজিটরও বাড়তে থাকবে এবং আপনার টার্গেট অডিয়েন্সও বৃদ্ধি পাবে৷ আর যত মানুষ আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানবে, তত বেশি আপনার পণ্য বা সেবা বিক্রি হবে৷


  • ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং

ইন্সটাগ্রামের বিভিন্ন রকম আকর্ষণীয় ফিচারকে কাজে লাগিয়ে যখন কোনো পণ্য, ব্র্যান্ড, সেবা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়, তখন তাকে বলা হয় ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং। বর্তমানে ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং ভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম৷


প্রধানত দুইভাবে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং করা যায়, যেমন :


  • অর্গানিক(Organic) : এখানে মূলত অর্গানিক কন্টেন্টগুলো পোস্ট করা হয়৷ যেমন : “স্টোরি”(Story) পোস্ট করা। এই ধরনের মার্কেটিংয়ে আপনাকে কোনো রকম খরচ করতে হয় না, এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
  • পেইড(Paid) : এখানে মূলত ইনফ্লুয়েন্সার ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মার্কেটিং করা হয়৷ এই ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা অর্থ খরচ করতে হবে।

পেইড বা অর্গানিক যে উপায়েই আপনি মার্কেটিং করেন না কেনো, এর জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা এবং ইন্সটাগ্রামের ফিচারগুলোর সুদক্ষ ব্যবহার৷ আপনার মার্কেটিং পরিকল্পনার সাথে সেগুলো যেনো মাননসই হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


বর্তমান সময়ে ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ :


প্রতিমাসে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার করেন৷ তাই আপনার পণ্য, ব্যবসা, সেবা বা ব্র্যান্ড সহজেই পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে৷ 

সমীক্ষা মতে, ৮৩% ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারীই ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নতুন পণ্য বা সেবার কথা জেনে থাকেন৷ 

ইন্সটাগ্রাম হচ্ছে ফেসবুকেরই একটি অংশ৷ তাই ফেসবুক মার্কেটিং করার সময়ই আপনি একইসাথে ইন্সটাগ্রামেরও প্রচারণা চালাতে পারবেন।

ইন্সটাগ্রাম মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে :


  • বিজনেস একাউন্ট (Business Account) ব্যবহার করুন। 
  • বিজনেস একাউন্ট প্রোফাইলটি ঠিকমতো সাজান৷ 
  • বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট তৈরি করুন।
  • সুন্দর এবং সাবলীল ক্যাপশন লিখুন।
  • যথাযথভাবে হ্যাশট্যাগ(Hashtag) ব্যবহার করুন।
  • নিয়মিত লাইভে যেয়ে প্রচারণা চালিয়ে যান।
  • ইন্সটাগ্রামের “স্টোরি” ফিচারটির সঠিক এবং সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন।
  • মনোযোগ দিয়ে এনালাইটিক্স(Analytics) করুন৷ 
  • যদি সম্ভব হয়, ইন্সটাগ্রাম শপ(Instagram Shop) ব্যবহার করুন।

  • টাম্বলার(Tumbler) মার্কেটিং

টাম্বলার হচ্ছে ব্লগ, ইন্সটাগ্রাম ও টুইটারের সম্বনয়ে গঠিত একটি প্লাটফর্ম। এজন্য এটিকে মাইক্রোব্লগিং প্লাটফর্ম বলা হয়৷ টাম্বলার প্লাটফর্মটির ব্যবহার প্রক্রিয়া খুবই সহজ৷ এই প্লাটফর্মটিতে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন পোস্ট হয়ে থাকে৷


মজার বা ফানি মিমস(Funny Memes), ছবি, জিআইএফ(এওঋ), শর্ট ভিডিও, এনিমেটড ক্লিপস তৈরির জন্য এটি খুবই কার্যকরী একটি মাধ্যম৷ তাই আপনি খুব সহজেই এগুলো ব্যবহার করে আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করে লক্ষ কোটি মানুষের মাঝে আপনার ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা সেবা পৌঁছে দিতে পারেন৷ 


  • ফ্লিকার(Flicker) মার্কেটিং

ফ্লিকার হচ্ছে ইমেইজ হোস্টিং এবং (Image hosting) ভিডিও হোস্টিংয়ের একটি বৈশ্বিক জনপ্রিয় অনলাইন কমিউনিটি৷ বর্তমানে প্রায় ৬৩টি দেশের প্রায় ১১২ মিলিয়ন মানুষ এটি ব্যবহার করে।


ফ্লিকারে মার্কেটিং করতে হলে আপনার সেখানে পণ্য বা সেবার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্বলিত ছবি বা ভিডিও পাবলিশ করতে হবে৷ আপনার মার্কেটিং, পণ্য বা সেবা দেখে যদি মানুষের পছন্দ হয় তাহলে তারা আপনার থেকে সেটি কিনে নিবে।


  • রেডিট(Reddit) মার্কেটিং

রেডিট হচ্ছে আমেরিকান একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম যা বর্তমানে গোটা বিশ্বে বহুল জনপ্রিয়৷ এর মাধ্যমে মূলত খবর, তথ্য, বিনোদন ইত্যাদি আদান-প্রদান করা হয়ে থাকে৷ রেডিটের মটো(Moto) হচ্ছে, “ফ্রন্ট পেইজ অফ দা ইন্টারনেট”। অর্থাৎ, ইন্টারনেট ব্যবহৃত প্লাটফর্মগুলোর সবার শীর্ষে থাকতে চায় তারা। রেডিট সেদিকেই এগোচ্ছে৷ বর্তমানে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে এটি ষষ্ঠ অবস্থানে আছে এবং বিশ্বে এর স্থান ১৭তম। জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি বর্তমানে টুইটার, লিংকেডিনের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।


রেডিটের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হলে আপনার প্রথমে তাদের মেম্বার হতে হবে অর্থাৎ, একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর সেখানে আপনি আপনার প্রচারণামূলক কন্টেন্টটি সাবমিট করবেন৷ আপনার কন্টেন্ট পছন্দ হওয়ার ভিত্তিতে অডিয়েন্স সেটাকে আপভোট(Upvote) বা ডাউনভোট(Downvote) করবে। যদি আপনার কন্টেন্টটি আপভোট পেয়ে থাকে, অর্থাৎ মানুষের পছন্দ হয়, তাহলে সেটি “পপুলার পোস্টস”(Popular Posts) এর উপরের দিকে দেখাবে। যার ফলে কেউ সেখানে ভিজিট করলেই তাদের আপনার কন্টেন্টটি চোখে পরবে। 


  • কোরা(Quora) মার্কেটিং

কোরা হচ্ছে মূলত একটি প্রশ্ন-উত্তরমূলক প্লাটফর্ম যা ব্যবহারকারীদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করার এবং উত্তর দেওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকে। প্রতিমাসে বিশ্বের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মানুষ গবেষণা সংক্রান্ত কাজে, কোনো পণ্যের মূল্যায়নে, পরামর্শ দিতে বা নিতে এবং অন্যান্য আরো অনেক কিছু জানতে এবং জানাতে কোরা ব্যবহার করে থাকে৷


কোরার মাধ্যমে মার্কেটিং করতে চাইলে রেডিটের মতো সেখানেও আপনার একটি একাউন্ট খুলতে হবে। তারপর আপনি সেখানে অডিয়েন্সদের আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে শুরু করুন। সাথে আপনার পণ্য বা সেবা এবং ব্যবসায়িক পেইজ বা ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিন৷ সেই লিংকের মাধ্যমে অডিয়েন্স আপনার পেইজ বা ওয়েবসাইটে এসে আপনার মার্কেটিং এবং সেবা দেখে পণ্য ক্রয় করতে পারে৷


এগুলো ছাড়াও আরো অনেকগুলো সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা যায়৷ তবে এগুলোই বহুল ব্যবহৃত মার্কেটিং মাধ্যম।


  • ইনফ্লুয়েন্সার(influencer) মার্কেটিং

“ইনফ্লুয়েন্সার” শব্দটির অর্থ হলো প্রভাবক। অর্থাৎ, যে সকল মানুষ নিজেদের চিন্তা-চেতনা, বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীলতা ইত্যাদি দিয়ে অন্য মানুষদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন তাদের বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংও অনেকটা তাই। সোশ্যাল মিডিয়াতে জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তিবর্গ যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিখ্যাত, যাদের প্রচুর ফলোয়ার(Follower) রয়েছে, এবং যাদের কথা মানুষ শুনে এবং গুরুত্ব দেয়, তাদের দ্বারা যখন কোনো ব্যবসা, পণ্য, ব্র্যান্ড বা সেবার মার্কেটিং করা হয় তখন তাকে বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং৷ 


প্রতিনিয়ত মার্কেটিংয়ের এতো এতো যুগান্তকারী কৌশল আবিষ্কৃত হচ্ছে যে, ব্যবসায়ীদেরকেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতে হয়। তেমনই একটি জনপ্রিয় কৌশল হলো ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং।


এই পদ্ধতিতে মার্কেটিং করার জন্য প্রথমে একজন ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়োগ দিতে হয়। অতঃপর সেই ইনফ্লুয়েন্সারকে আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বুঝিয়ে দিবেন। সেই অনুযায়ী তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে আপনার ব্যবসা, ব্র্যান্ড, পণ্য বা সেবার কথা শেয়ার করে সেগুলোর প্রচারণা চালাবেন। এই শেয়ারিং বা মার্কেটিং দেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে তার যে ফলোয়াররা রয়েছেন তারা আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন৷


স্বাভাবিকভাবেই, তারা তখন আপনার পণ্য বা সেবার প্রতি কৌতুহল বোধ করবে এবং অনেকটা আশ্বস্ত বোধ করবে। কারণ, তারা অনুসরণ করেন এমন একজনই সেটার মার্কেটিং করছেন৷ তখন তারা অবশ্যই চাইবেন আপনার ব্যবসায়িক পেইজ বা সাইট বা পণ্যগুলো ঘুরে দেখতে৷


ইনফ্লুয়েন্সার যদি তার শেয়ার করা পোস্টে আপনার ব্যবসায়িক পেইজ বা সাইট বা পণ্যের লিংকগুলো দিয়ে দেন, তাহলে অডিয়েন্স সহজেই ঐ লিংকে যেয়ে আপনার সেবা বা পণ্যগুলো দেখতে পারে। আর দেখে যদি তাদের পছন্দ হয়, তখন তারা সেগুলো ক্রয় করতেও আগ্রহী হবে৷ এভাবে একসময় তারা আপনার নিয়মিত গ্রাহকেও পরিণত হতে পারে।


অবশ্যই, এই ধরনের মার্কেটিংয়ের জন্য আপনার ইনফ্লুয়েন্সারকে কিছুটা অর্থ দিতে হবে। কিন্তু বিনিময়ে তার লক্ষ কোটি ফলোয়ার আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানবে এবং আপনার গ্রাহকেও পরিণত হতে পারে। এই সুবিধা পেতে সামান্য অর্থ ব্যয় তো করাই যায়।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.