Header Ads

Header ADS

চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত বৈমানিকের মৃত্যু

 চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহত দুই বৈমানিকের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নৌবাহিনীর ইসা খাঁ ঘাঁটির বিএনএস পতেঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদের মৃত্যু হয় বলে পতেঙ্গা থানার ওসি কবীরুল ইসলাম জানান। ওই ঘটনায় আহত উইং কমান্ডার সুহান বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটির মেডিকেল স্কোয়ার্ডনে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন ওসি।



শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলিম আহমেদ জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে।


উড্ডয়নের পরপরই ওই বিমানে আগুন লেগে যায়। পরে সেটি চট্টগ্রাম বোট ক্লাবের কাছে কর্নফুলী নদীতে বিধ্বস্ত হয়ে তলিয়ে যায় বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা। তিনি বলেন, “বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাশুট দিয়ে নেমে আসেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।”

স্কোয়াড্রন লিডার অসিম জাওয়াদ সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি করে ২০১০ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স একাডেমিতে যোগ দেন এবং ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন পান। ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর’স স্কুল অব বিএএফ-এ স্টাফ ইনস্ট্রাক্টর ছিলেন তিনি। পেশাজীবনে কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অফ অনার’ পেয়েছেন অসিম জাওয়াদ। ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ণঅক ১৩০ প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে’ দুর্ঘটনায় পড়ে। রাশিয়ার তৈরি ণঅক ১৩০ কে বলা হয় অ্যাডভান্সড জেট প্রশিক্ষণ বিমান। এর মাধ্যমে চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গী বিমানের প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। তাছাড়া হালকা জঙ্গী বিমান এবং গোয়েন্দা বিমান হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে এ ধরনের ডজনখানেক উড়োজাহাজ রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনার পর কিছুসময় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা যা জানালেন : চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজে আগুন ধরার পরপরই দুই বৈমানিককে প্যারাশুট নিয়ে নদীতে নেমে আসতে দেখেন আশপাশের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) সংলগ্ন অংশে উড়োজাহাজটি বিধস্ত হয়। 


স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুতে উড়োজাহাজের পেছনের অংশে আগুন লাগে। এর পরপরই দুই বৈমানিক প্যারাশুট নিয়ে ঝাঁপ দেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে উড়োজাহাজটিতে। এরপর সেটি পানিতে নেমে আসে। 


ঘটনাস্থলের পাশে থাকা জরিপকারী জাহাজ এমটি জুবিলি দোয়া জাহাজের ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হয়। দেখি, একটা বিমানের পিছনে আগুন লেগেছে। 

এসময় বিমানের দুপাশ থেকে দুজন প্যারাশুট নিয়ে ঝাঁপ দেয়।" মিজানুর রহমান বলেন, নদীতে থাকা একটি সবুজ রঙের বয়ার পাশেই উড়োজাহাজটি বিধস্ত হয়। 

ওই জাহাজের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিমান থেকে যে দুজন পানিতে পড়েন, তারা ৫-৭ মিনিট পানিতে ছিলেন। তারপর নদীর দুই পার থেকে দুইটা ইঞ্জিন বোট দ্রুত এগিয়ে যায়। "বোটে যাত্রী ছিল। তবু তারা বিমান থেকে দুজনকে পড়তে দেখে ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার করা দুজনের মধ্যে একজনের মুখ থেকে পানি বের হতে দেখেছি। উনার অবস্থা খারাপ ছিল।"প্রথমে ঘটনাস্থলের ডান পাশে অদূরে ১২ নম্বর ঘাটের কাছে থাকা একটি বোট বৈমানিকদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। এসময় নদীর দক্ষিণ পাড় থেকে ১২ নম্বর ঘাট অভিমুখে আসতে থাকা অন্য বোটটিও ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। 


১২ নম্বর ঘাটে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, "আকাশে যখন বিমানের পিছনে আগুন লাগে, তখন আমি দেখতে পাই। বিমানটা তিন টুকরা হয়ে পড়ে গেল। তার আগে প্যারাশুট নিয়ে দুজন বের হল। বিমান তিন টুকরা হয়ে ভেঙে পড়ল। "তখন বোটের মাঝিদের বলি, তাড়াতাড়ি গিয়ে বিমান থেকে পড়া দুজনকে উদ্ধার করতে। তারা গিয়ে উনাদের তুলে আনে।"এর কিছুক্ষণ পর নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের দলও উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। 


ওই এলাকার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর জানায়, সকালে বিমান বাহিনীর ওই উড়োজাহাজটি নদীর লাগোয়া বিমানবন্দর সড়কের অপর পাশ থেকে উড়ে আসছিল। তখন সেটি নিচু হয়ে উড়ছিল। এরপর উপরের দিকে ওঠার সময়ই বিকট শব্দ হয় এবং তারপর উড়োজাহাজটির পেছনের অংশে আগুন দেখা যায়। 


শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলিম আহমেদ জানান, সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে।


আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর  প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে’ দুর্ঘটনায় পড়ে। 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবাররের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 


আইএসপিআর জানায়, বিমানটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে বৈমানিকদ্বয় অত্যন্ত সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে বিমানটিকে বিমান বন্দরের নিকট অবস্থিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যেতে সক্ষম হন।


সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল মুঃ কামরুল ইসলাম ঢাকা থেকে দূর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে এম শফিউল আজম দুর্ঘটনা পরবর্তী কার্যক্রম তত্ত¦াবধান করেন।


বিমান বাহিনী প্রধান এর নির্দেশক্রমে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যে বিমান বাহিনীর একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.