অনলাইন ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া
তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমাদের জীবন যেমন হয়েছে সহজ তেমনি কেটেছে প্রচুর বাঁধা। ইন্টারনেট সমগ্র পৃথিবীকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। বিনোদন ছাড়াও ইন্টারনেট এখন অনেকের জন্য আয়ের প্রধান উৎস। ঘরে বসেই শুরু করা যাচ্ছে ব্যবসা যার কাস্টোমার হতে পারে পুরো পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের যেকোন মানুষ।
Digital Business course for beginners
অনলাইনে ব্যবসা শুরু করা খুব কঠিন কিছু নয়, আবার একেবারে সহজ এমনটাও নয়। যেকোন ব্যবসা শুরুর আগে কিছু করনীয় থাকে– বিজনেসের প্ল্যান করা কিংবা স্ট্র্যাটেজি সাজানোর মত সুক্ষ্ম কিন্তু অতীব জরুরী বিষয়গুলো প্রায়ই উপেক্ষা করতে দেখা যায় নতুন উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। যার ফলে ব্যবসা শুরুর পরে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখা যায় না, কিংবা টিকে থাকাই হয়ে উঠে মুশকিল। আজকে আমরা আলোচনা করব এমনই কিছু করনীয় নিয়ে যা অবশ্যই অনলাইন বিজনেস শুরু করার আগে করণীয়। শুরুতে জেনে নেই কি কি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজনঃ
১. পণ্য/সার্ভিস
২. মার্কেট এনালাইসিস
৩. বিজনেস প্ল্যান
৪. সাপ্লাই চেইন ও ডিস্ট্রিবিউশন
৫. ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া
৬. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
৭. মার্কেটিং এবং সেলস
আসুন এবার বিস্তারিত জানা যাক।
১. পণ্য/সার্ভিস
প্রথমেই ঠিক করুন কোন পণ্য কিংবা সার্ভিস দিয়ে ব্যবসা করবেন। অনলাইনে অগণিত উদ্যোক্তা বিভিন্নরকম পণ্যের কিংবা সার্ভিসের ব্যবসা করছেন, আপনি কি সেল করবেন ঠিক করতে হবে আপনাকেই। কারো দেখাদেখি কিংবা অনুকরণ না করে নিজে যে পণ্যের উপর বিশ্বাস করেন, যে পণ্য নিয়ে আপনার ভালো ধারণা আছে সেটা নিয়েই আগান। চিন্তা করুন আপনার পণ্য আপনি নিজে ব্যবহার করবেন কিনা বা আপনার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ব্যবহার করবে কিনা। এই সাধারণ একটি চিন্তা আপনাকে বেশ কনফিডেন্স যোগাবে, সাথে আপনি নিজে বুঝতে পারবেন সঠিক পণ্য নিয়েই আগাচ্ছেন কিনা।
২. মার্কেট এনালাইসিস
কি নিয়ে বিজনেস করবেন ঠিক করলেন, কিন্তু সে পণ্যের চাহিদা কেমন, কারা কিনবে, কতবার কিনবে এধরণের ব্যাপারগুলো নিয়ে স্টাডি করুন। দেখা গেল এমন পণ্য নিয়ে কাজ করছেন যেটার তেমন চাহিদা নেই, কিংবা আপনার পণ্যের টার্গেট কাস্টোমারদের কাছে সেল না করে যার চাহিদা নেই তার কাছে সেল করতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে ব্যবসার গ্রোথ আশানুরুপ হবে না, বরং ব্যর্থ হবার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হবে।তাই মার্কেট বুঝুন ভালো করে। যাদের টার্গেট করছেন কাস্টোমার হিসেবে তাদের সাথে কথা বলুন, সার্ভে করতে পারেন, কম্পিটিটরদের এক্টিভিটি দেখুন, তাদের পেইজ কিংবা গ্রুপে কাস্টোমার কি মতামত দিচ্ছে এবং কি চাচ্ছে মনোযোগ দিয়ে এনালাইসিস করুন, অন্যের ভুল থেকে নিজে শিখুন।
এমন ব্যবসা বাছাই করবেন যেটির পর্যাপ্ত বাজার চাহিদা রয়েছে
বেশিরভাগ মানুষই পণ্য ও বাজার নিয়ে রিসার্চ করতে ভুল করে। আপনার সফলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার জন্য বাজার যাচাই করা শুরু করে দিন। অনলাইনে কোন পন্যের চাহিদা বেশি সেটা নির্বাচন করা জরুরি। সম্ভাবনা যাচাই করার কৌশলটা অনেকটা এরকম যে, আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কোন মানুষ কি খুঁজছে, এবং তাদের চাহিদা। যদিও কাজটা বেশ জটিল তবে, ইন্টারনেট এই ধরণের বাজার গবেষণা খুবই সহজ করে দিয়েছে। যেমন:
- আপনি বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে যান এবং দেখুন মানুষ কি ধরনের প্রশ্ন করে এবং কি ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে অর্থাৎ তাদের চাহিদা টা কি।
- কি-ওয়ার্ড রিসার্চ করুন। রিসার্চ করে জানুন, মানুষ কি ধরনের কি-ওয়ার্ড বেশি অনুসন্ধান করে।
- আপনি আপনার সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের সাইটে যান তাদের সাইট ভিজিট করুন। দেখুন জানুন তারা তাদের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ ও গ্রাহক চাহিদা অনুসন্ধানের জন্য কি কি করছে। অথবা কি কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে।
- প্রতিটি বিষয়কে নোট করুন। আপনি রিচার্জ করে যা যা পেলেন তা দিয়ে একটি পণ্যের লিস্ট তৈরি করুন।
৩. বিজনেস প্ল্যান
সবচেয়ে বেশি উদ্যোক্তারা যে ভুলটা করে থাকেন তা হল একটি প্রোপার বিজনেস প্ল্যান না করা। কেবল মুখে মুখে কিংবা ধারণা করে নয়, একটি টেমপ্ল্যাট ধরে পুরো বিজনেস প্ল্যানটি লিখুন। এতে কোথায় কি ধরণের গ্যাপ আছে নিজেই বুঝে যাবেন। আসলে একটি বিজনেস প্ল্যান আপনার আইডিয়াকে এমনভাবে সাজিয়ে তুলবে যাতে আপনি বুঝতে পারেন আপনার স্ট্র্যাটেজি কেমন হওয়া উচিৎ, আপনার একটা নির্দিষ্ট টার্গেটে পৌঁছাতে পুরো ওয়ার্ক প্রসেস কেমন হতে হবে। অনেক ভালো বিজনেস আইডিয়া ফেইল করতে পারে শুধুমাত্র সুগঠিত প্রসেস কিংবা স্ট্র্যাটেজি না থাকার কারনে। একটি ভালো বিজনেস প্ল্যান আপনাকে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন নিতে সাহায্য করবে, মাঝপথে যেন খেই হারিয়ে না ফেলেন তা নিশ্চিত করবে, সাথে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে আপনি আরো ভালো ধারণা পাবেন, ফোকাসড থাকতে পারবেন।
পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন
কিছু প্রমাণিত কৌশল রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি পণ্য দেখতে আসা গ্রাহকদেরকে ক্রেতাতে পরিণত করতে পারবেন যেমন:
- একটি আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী শিরোনাম দিন।
- আপনার পণ্য বা সেবা টি গ্রাহকের যে সকল চাহিদা পূরণ করবে তার বর্ণনা দিন।
- লোকের কাছে আপনার পণ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা স্থাপন করুন।
- আপনার পণ্য যারা ব্যবহার করেছেন তাদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র যুক্ত করুন। অর্থাৎ পণ্যের রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
- পণ্য বা সেবা টি ব্যবহার করে ভোক্তাগণ কিভাবে উপকৃত হবে সে বিষয়ে বর্ণনা দিন।
- প্রয়োজনে বিশেষ অফারের কথা উল্লেখ করুন।
- পণ্যের সাথে গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি যুক্ত করুন।
- পণ্যটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত করুন।
আপনার পণ্যটির অনুলিপি জুড়ে, আপনার পণ্য বা পরিষেবা কীভাবে মানুষের চাহিদা গুলি পূরণ করবে বা তাদের জীবনকে আরও উন্নত করতে সক্ষম তার উপর ফোকাস করুন। গ্রাহকের মতো ভাবুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন ” এই পণ্য বা সেবা টিতে আমার কি আছে?”
৪. সাপ্লাই চেইন ও ডিস্ট্রিবিউশন
পণ্য কোত্থেকে এবং কীভাবে সোর্স করবেন ঠিক করে নিন। চেষ্টা করুন সোর্সিং প্রসেসটা যেন স্মুথ এবং যথাসম্ভব অল্প খরচে করা যায়, এতে প্রোডাক্টে আপনার প্রফিট মার্জিন বাড়বে। পণ্য সোর্স কেবল একটি হলে ব্যাকআপ হিসেবে আরো ২-৩টি সোর্স যোগ করুন। তবে পণ্যের কোয়ালিটি নিয়ে আপোষ করবেন না এক্ষেত্রে। সবসময় এমনভাবে সোর্সগুলোকে রেডি রাখুন যাতে কোনো কাস্টোমারকে খালি হাতে যেতে না হয়।
পণ্য নিজে ম্যানুফাকচার করলে কতটুক ম্যানুফাকচার করতে পারবেন এবং কীভাবে ম্যানুফাকচারিং প্লেস থেকে কাস্টোমারের কাছে পৌঁছাবেন তা ঠিক করুন। ডিস্ট্রিবিউশন খুবই জরুরী অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে। বেকারি পণ্যের ডিস্ট্রিবিউশন প্রসেস ফ্যাশন পণ্যের ডিস্ট্রিবিউশনের মত হবে না। সঠিক পণ্যের জন্য সঠিক ডিস্ট্রিবিউশন প্রসেস ঠিক করুন। অন্যথায় কাস্টোমার স্যাটিস্ফ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। খুব ভালো প্রোডাক্ট, খুব সুন্দর বিজনেস প্ল্যান থাকার পরেও ব্যবসা ফেইল করতে পারে যদি একটি স্ট্রং সাপ্লাই চেইন এবং ডিস্ট্রিবিউশন নিশ্চিত করতে না পারেন। কাজেই সতর্ক থাকুন এমন ছোটখাটো ব্যাপারেও।
৫. ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া
অফলাইন বিজনেসে আমরা কাস্টোমারকে যেমনটা দোকানে প্রোডাক্ট সেল করি ঠিক তেমনি অনলাইনে কাস্টোমারকে আমরা ওয়েবসাইটে পণ্য সেল করি। ওয়েবসাইটই আপনার ডিজিটাল দোকান। একটি ওয়েবসাইট থাকলে কাস্টোমার আপনাকে যেমন স্মার্ট ভাববেন তেমন আপনার উপর বিশ্বাস বাড়বে। অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর। কিন্তু কথা হল ব্যবসা শুরু করছেন এখনই কি ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ করে ওয়েবসাইট বানাবেন? এটা মোটেও ভালো বুদ্ধি হবে না। বর্তমানে এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে যেগুলো দিয়ে নিজেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট সেটাপ করে নেয়া যায় বাহ্যিক কোনো ডেভেলপারের সহযোগীতা ছাড়াই। তাছাড়া নিজের ব্যবসার জন্য ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামের মত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে পেইজ খুলে ফেলুন। ওয়েবসাইটটি পেইজে যোগ করে দিন। প্রতিনিয়ত পেইজে কন্টেন্ট দিয়ে একটিভ থাকুন, কাস্টোমারের মেসেজ এবং কমেন্টের রেসপন্স করুন। সাথে নিজের ব্যবসার একটা কমিউনিটি গড়ে তুলুন ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। এতে আপনার কাস্টোমাররা নিজেদের মতামত আরো সহজে দিতে পারবে, আপনার আপডেট আরো দ্রুত পাবে। কমিউনিটির মাধ্যমে ব্র্যান্ড বিল্ড করা এবং লয়াল কাস্টোমারবেইজ বানানো অনেক বেশি ইফেক্টিভ হতে পারে।
তবে শুধুমাত্র ফেসবুকে বিক্রি করবেন না, এফ-কমার্স থেকে ই-কমার্সে রুপান্তর করাটা সবসময় মাথায় রাখা উচিত। নাহয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডেটা আপনি হারাবেন যা আপনার ব্যবসার উন্নতিতে সহায়তা দিবে।
আকর্ষণীয় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন
পণ্যের বাজারজাত ও পণ্য নির্বাচন করার পর আপনার ওই ধাপটি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আপনার আসল কাজ গুলো এখনো বাকি। অর্থাৎ আপনার কাছে ৫ সেকেন্ডের ও কম সময় থাকবে আপনার ওয়েবসাইটে একটি গ্রাহক কে আকর্ষণ করার জন্য। আর যদি উক্ত সময়ের মধ্যে আপনি ব্যর্থ হন তবে আপনি একটি সম্ভাব্য ক্রেতা হারাবেন। আর ঠিক এই জন্যই ওয়েবসাইট ডিজাইন টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস মাথায় রাখবেন ওয়েবসাইট ডিজাইনের ক্ষেত্রে:
- যতটা সম্ভব তথ্যবহুল করার চেষ্টা করুন এবং পণ্য সংক্রান্ত ব্যতীত অতিরিক্ত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকুন।
- ন্যাভিগেশন যতটা সম্ভব স্পষ্ট এবং সহজ-সরল রাখুন এবং ওয়েবসাইটের প্রতিটি পৃষ্ঠা একরকম রাখার চেষ্টা করুন।
- কেবল গ্রাফিক্স, অডিও বা ভিডিও ব্যবহার করুন এতে আপনার তথ্যর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে।
- ক্যাম্পেইন অফার যুক্ত করুন যাতে করে আপনি গ্রাহকের ইমেইল সংগ্রহ করতে পারেন।
- পণ্য ক্রয়ের ধাপগুলো অত্যন্ত সহজ করুন যেন গ্রাহক দুটো ক্লিকের মাধ্যমে পণ্যটি ক্রয় করতে পারে।
- আপনার ওয়েবসাইটটি একটি অনলাইন স্টোর-ফ্রন্ট, তাই এটিকে গ্রাহক বান্ধব করুন।
৬. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
ব্যবসা পরিচালনা করতে কোনো ধরণের পারমিশন, লিগাল ডকুমেন্ট থাকা আবশ্যকীয় হলে করে ফেলুন। বিজনেস আইডি, ট্রেড লাইসেন্স, ঞওঘ কিংবা কোনো পণ্য বিশেষ কাগজ পত্র থাকলে ইন্টারনেট কিংবা নিজে গিয়ে খোঁজ নিয়ে সেরে নিন। চেষ্টা করুন ব্যবসা শুরুর পর যেন জটিলতা এড়িয়ে চলা যায় এবং পূর্ন মনোযোগ ব্যবসায় দেয়া যায়।
৭. মার্কেটিং এবং সেলস
ব্যবসা শুরু করেছেন এখন তো সেলস দরকার। সেলস আনতে মার্কেটিং শুরু করুন। মার্কেটিং মানেই কেবল পোস্ট বুস্ট করা নয়। মার্কেটিংয়ের জন্য প্রসেস ফলো করুন, এক্ষেত্রে কোনো মার্কেটিং ফানেল অনুসরণ করে সেলস জেনারেট করুন। আপনার পণ্য ব্যবহার করবে এমন একটি আদর্শ মানুষের প্রোফাইল বানান, যাকে ওফবধষ ঈঁংঃড়সবৎ চৎড়ভরষব(ওঈচ) বলে। আপনার সব মার্কেটিং প্ল্যান এই আইসিপির মানুষের সাথে কতটুক যৌক্তিক বিবেচনা করে সাজান। ওয়েবসাইটে এই আইসিপি থেকে ভিজিট আনুন, ভিজিটরদের রিটার্গেটিং করুন। সোশ্যাল মিডিয়াতে এনগেইজিং পোস্ট করুন, নিজের ব্র্যান্ডকে পরিচিত করে তুলুন। ভাইরালিটির উপর জোর দিন, এতে পেইড প্রমোশনের চাইতে ওয়ার্ড অফ মাউথ বেশি হবে এবং এর মাধ্যমে খুব সহজে কম খরচে বেশি রিচ করতে পারবেন অর্গানিকালি।
প্রথমে একজন কাস্টোমার আনুন, এরপরে ১০ জন, এরপরে ১০০ জন এভাবে টার্গেট সেট করে সেলস স্ট্র্যাটেজি ঠিক করুন এবং সে অনুসারে মার্কেটিং করুন।
৮. ডিজিটাল মাকেটিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিন
অনলাইন ব্যবসা করতে গেলে ডিজিটাল মাকের্টিং ছাড়া সফলতা সম্ভব নয়। আপনি যদি পণ্যের সেল বৃদ্ধি করতে চান এবং ব্যবসায়কে দ্রুত প্রসার করতে চান তাহলে, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিকল্প কোন কিছু নেই।
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- ভিডিও মার্কেটিং
- কন্টেন্ট মার্কেটিং
- ইমেল মার্কেটিং
৯.ইমেইল মার্কেটিং করুণ
ওয়েবসাইটের ভিজিটর কে ক্রেতায় পরিণত করতে ইমেইল মার্কেটিং এর সহায়তা নিন। একটি অনলাইন ব্যবসা এর সবচাইতে মূল্যবান হল গ্রাহকদের ইমেইল। এর মাধ্যমে আপনি গ্রাহকদের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারবেন। কেননা এর মাধ্যমেই আপনি প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের আপনার ব্যবসায়ের নতুন পণ্য সম্পর্কে অবগত করতে পারবেন।
১০.গ্রাহকদের আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসার জন্য সার্চ ইঞ্জিন এর সহায়তা নিন
Pay-per-click advertising একটি নতুন ওয়েব সাইটের ট্রাফিক পাওয়ার জন্য একটি অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরী উপায়। অর্গানিক ভাবে ট্রাফিক পাওয়ার তুলনায় এটি বেশি সুবিধাজনক এবং কার্যকরী।
PPC ads আপনার সার্চ পেইজকে তাৎক্ষণিক-ভাবে সবার উপরে নিয়ে আসবে। আর এতে করে গ্রাহকগণ আরও বেশি বেশি আপনার পণ্যগুলোকে দেখতে পাবেন এবং বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তাছাড়া আপনি কেবল তাৎক্ষণিক ট্র্যাফিকই পাবেন না, সেই সাথে আপনি চচঈ ধফং আপনার সেরা ও সর্বোচ্চ-রূপান্তর-কারী কি-ওয়ার্ডগুলোকে অর্গানিক ভাবে গুগল র্যাংকিংয়ে সবার উপরে নিয়ে আসতেও সাহায্য করবে।
১১.পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন
কিছু প্রমাণিত কৌশল রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করার মাধ্যমে আপনি পণ্য দেখতে আসা গ্রাহকদেরকে ক্রেতাতে পরিণত করতে পারবেন যেমন:
- একটি আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী শিরোনাম দিন।
- আপনার পণ্য বা সেবা টি গ্রাহকের যে সকল চাহিদা পূরণ করবে তার বর্ণনা দিন।
- লোকের কাছে আপনার পণ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা স্থাপন করুন।
- আপনার পণ্য যারা ব্যবহার করেছেন তাদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র যুক্ত করুন। অর্থাৎ পণ্যের রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
- পণ্য বা সেবা টি ব্যবহার করে ভোক্তাগণ কিভাবে উপকৃত হবে সে বিষয়ে বর্ণনা দিন।
- প্রয়োজনে বিশেষ অফারের কথা উল্লেখ করুন।
- পণ্যের সাথে গ্যারান্টি ওয়ারেন্টি যুক্ত করুন।
- পণ্যটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবগত করুন।
আপনার পণ্যটির অনুলিপি জুড়ে, আপনার পণ্য বা পরিষেবা কীভাবে মানুষের চাহিদা গুলি পূরণ করবে বা তাদের জীবনকে আরও উন্নত করতে সক্ষম তার উপর ফোকাস করুন। গ্রাহকের মতো ভাবুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন ” এই পণ্য বা সেবা টিতে আমার কি আছে?”
যেকোন বিজনেস শুরুর আগেই স্টাডি করা প্রয়োজন আর অনলাইন বিজনেসে যেহেতু ভার্চুয়ালি হয় তাই আরও বেশি কেয়ারফুল হতে হয়। অনলাইন বিজনেস শুরুর আগে নিজের একটা ভিশন থাকা দরকার যেটাকে বলা হয় মাইন্ড-সেট। তাই আগে ভিশন ঠিক করে নিন। একটি অনলাইন প্রজেক্ট কে লাভজনক করার জন্য এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যত গুলো ধাপ আছে,সবগুলো সম্পর্কে ভালভাবে জানুন তারপর এবং ডিরেক্ট অ্যাকশনে যান।
অনলাইন বিজনেস শুরু করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয় তবে, যদি বলেন সফল হতে চান,
তবে এই ৪ টি বিষয়ে ফোকাস করুন।
"সঠিক পরিকল্পনা, মার্কেট পর্যালোচনা, বিনিয়গ,পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত কাজ"
১। বিজনেস প্ল্যান করা:-
পণ্য বা সেবা নির্বাচন করুন। আপনি কি পণ্য বা সেবা দিতে চাচ্ছেন, কোন শ্রেণীর লোক মূলত আপনার ক্রেতা হবে, তা নির্দিষ্ট করুন।
কী ওয়ার্ড পর্যালোচনা করুন, কি পরিমান সম্ভাব্য ক্রেতা আছে, কত গুলো প্রতিযোগী কোম্পানি আছে, আপনার অবস্থান, বাজেট, মার্কেটিং পলিসি কি হতে পারে তা নির্ধারণ করুন।
২। বিজনেস প্ল্যান লেখা:-
আপনার পণ্য বা সেবাকে সঠিক ভাবে ক্রেতার নিকট বোধগম্য করার জন্য কন্টেন্ট লিখুন, নিয়মিত কন্টেন্ট যেমন: কি কি পণ্য / সেবা দিচ্ছেন, এর সুবিধা কি কি, কাদের জন্য, এইরকম কন্টেন্ট
আপনার কোম্পানির প্রোফাইল পেজ, কন্টাক্ট পেজ, প্রাইভেসী পেজ, টার্মস এন্ড কন্ডিশন পেজ এবং অন্য কোনো কোম্পানির সাথে এফিলিয়েট থাকলে ডিসক্লেইমার পেজ এন্ড ডিসক্লোজার পেজ তৈরী করুন।
এরপর অনপেজ এস এ ও করে আপনার সবগুলো পেজ কে সঠিক ভাবে আপনার পূর্বে নির্বাচিত কী ওয়ার্ড অনুযায়ী অপ্টিমাইজেশন করে নিন
৩। বিজনেস, ডোমেইন নেম রেজিস্টার:-
ডোমেইন নাম নিবন্ধন করুন, এমন একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করুন, যেন নাম থেকেই আপনার বিজনেস এর ধরণ বুঝা যায়, এতে করে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারবে ।
৪। ওয়েবসাইট তৈরি এবং ম্যানেজমেন্ট
এরপর এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন যেন আপনার পণ্য বা সেবাকে খুব সুন্দর ভাবে ক্রেতার নিকট উপস্থাপন করা যায়, আর এটিই হলো আপনার অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম ।
আপনার ওয়েবসাইট কে অনলাইন করার জন্য ভালো মানের একটি হোস্টিং নির্বাচন করুন
এরপর আপনার ওয়েবসাইট এর নিয়মিত নিরাপত্তা চেক করুন, আপডেট করুন, ব্যাকআপ রাখুন এবং আরো কিভাবে ভালো বিজনেস করা যায় তা পর্যালোচনা করুন।
৫। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মার্কেটিং:-
অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, নিয়মিত কনটেন্ট মার্কেটিং, ভিডিও মার্কেটিং, ও বিভিন্ন প্রকার লিংক বিল্ডাপ এর মাদ্ধমে ভালো ভাবে অফ-পেজ এস এ ও করুন ফেইসবুক সহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলো ভালভাবে পরিচালনা ও অন্যান্য কৌশলগুলো ও জানতে হবে
৬। বানিজ্যিক অ্যাকাউন্ট খোলা:-
বিভিন্ন গ্রাহকের সাথে লেনদেন করতে হলে একটা আলাদা অ্যাকাউন্ট খোলা ও মেইনটেইন করতে জানতে হবে।
৭। যোগাযোগ বৃদ্ধি:-
প্রথমেই আপনার অনেক ক্রেতা তৈরি হবে না। শুরুতে পরিচিতদের আপনার বিজনেস সম্পর্কে জানান এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন রকমের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে আপনার আইডিয়া ও ক্রেতা দুটোই বাড়বে।
৮। ব্যবসায়ের আইন কানুন:-
আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। সেক্ষেত্রে সাধারণ আইনের পাশাপাশি সাইবারের নানা আইন আর নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে।
No comments
ধন্যবাদ।