Header Ads

Header ADS

কিছু ভাবনা জীবনের জন্য

 ছুটছি আমরা। ক্রমাগত ছুটেই মরছি। কেন? জীবন ও জীবিকার তাগিদে। জীবিকার জন্য আমরা সব করতে রাজি। করছিও। কিন্তু একবার কি ভেবেছি যে জীবনকে আমরা কী দিলাম? জীবন কি আমাদের কাছে কিছুই চায় না?



 কী করছি আমরা আমাদের জীবনকে সতেজ রাখতে? জ্বী। বলছিলাম আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা। জীবিকা আমাদেরকে আর্থিক সামর্থ যোগায় ঠিকই কিন্তু মানসিক সামর্থের কী খবর? সেই খোঁজ আমরা প্রতিজন কতবার নিচ্ছি? এর মধ্যেই যোগ হয়েছে করোনা নামক এক অজানা অচেনা জীবানু। গোটা একটি বছর আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেলো চোখের নিমিষেই। সামনের বছরেও যে খুব একটা ফিরতে পারবো তেমন বলা যাচ্ছে না। মানুষ মাত্রই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে চাওয়া উচিত কিন্তু পারছি কী? জীবিকার তাড়া আমাদেরকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে। আজকাল আমরা নিজের কাছ থেকেও পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু মুক্তি পাচ্ছি কোথায়? চাইলেই কি মুক্তি পাওয়া যায়? যায় না। কারণ জীবন সত্য এবং এই জীবনের কিছু নির্দিষ্ট চাহিদা আছে। সেগুলোকে অস্বীকার করতে চাইলেই সে আমাদের সাথে বিট্রে করে। প্রতিরোধ গড়ে তুলে। একটা সময় আমরা জীবনী শক্তি হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে যাই।


আমাদের আশেপাশে আমরা সবাই একটি গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছি। না চাইলেও হতে হয়েছে। আমরা কেউ কেউ হয়তো মুক্ত বিহঙ্গের দিন কাটাতাম সেখানে এসেছে নতুন বন্ধন। যে মুখ আমাদেরকে মনের ভাব প্রকাশে সাহায্য করতো আজ সে নিজেই মুখোশের আড়ালে বন্দি। এও কি ভেবেছিলো কখনও মানুষ? আমাদের অন্তর কি এই বন্দীদশার জন্য প্রস্তুত ছিলো? ছিলো না। অথচ আকষ্মিক এক তুফানের মত আমরা আমাদের মুক্ত মনটিকে মেরে ফেলতে চাইছি। একঘেয়ে রুটিনের দিনগুলো আমাদেরকে নিয়ে যাচ্ছে এক অচেনা রাস্তা ধরে। আমরা কেউই জানিনা সেই রাস্তায় কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। কিন্তু আমরা মানুষ। ঐ যে বললাম, জীবিকাতো টিকিয়ে রাখছি আমরা কোন না কোন উপায়ে কিন্তু জীবনকে কী দিচ্ছি, ভাবা দরকার একবার। হতাশার দুনিয়ায় দুয়ারটি সবসময় খোলাই থাকে কিন্তু "চীয়ার্স বাড্ডি" বলার মত লোকগুলো হারিয়ে যাচ্ছে একে একে। যে মানুষটি একদিন আপনাকে দেখলে হাসিখুশীতে ভরে উঠতো সেই মানুষটিকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। প্রিয়জনের পাশে বসবার সাধটি আছে কিন্তু কেন যেন হয়ে উঠছে না।


আমাদের ভালোলাগার কাজগুলো কি আমাদের কাছে পরিষ্কার? আমরা যা করে ব্যস্ত থাকতে চাইছি আসলেই কি আমরা সেগুলোই করতে চেয়েছিলাম? হয়তো এই প্রশ্নটুকুও করতে সাহস পাইনা আজকাল। পাছে জীবন আমাকে নেতিবাচক উত্তর দেয়। আমরা আসলে খড়কুটোকে আকঁড়ে ধরে বাঁচতে চাইছি। কিন্তু খড়কুটো কতদিন আপনাকে সাহস দিবে? দিবে না। এত হতাশার মাঝেও আমাদেরকে উঠে দাঁড়াতে হয়। হবেই যে। আমরা যে মানুষ। মরে যেতে চাইলে মরে যাওয়াই যায়। কিন্তু সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে। আমি কি ছাড়পোকার মত ছটপট করতে করতে মরবো না কি সাদা গোলাপের মত প্রস্ফুটিত হয়ে একেবারেই ঝড়ে যাবো।


জীবিকার পিছনে আমরা যারা ছুটে চলেছি তাদের বলবো, আসুন একটিবার জীবনের কথা ভাবি। নিজের জন্য সময় বের করি। একটিবার চেষ্টা করে দেখিনা জীবনকে কিছু উপহার দিতে পারি কী না। আগুনের মত জ্বলতে না পারি কিন্তু প্রদীপকে কেন মেরে ফেলবো? জীবন নামক প্রদীপের সলতেটুকুতে প্রতিদিন সামান্য করে হলেও কেরোসিন ঢালি। সতেজ রাখি সঠিক সময়ের জন্য। একদিন সে পূর্ণ ত্যাজে জ্বলবেই।




No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.