Header Ads

Header ADS

কবি জীবনানন্দ দাশের আকাশলীনা

 সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনের কোলে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। কবি জীবনানন্দ দাশের আকাশলীনা কবিতার নামানুসারে এই পর্যটন কেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে।



সড়কপথে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে সাতক্ষীরার এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে। চুনা ও মালঞ্চ নদীর কোল ঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়িতে অবস্থিত আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ আধার। প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে এটি। যে জায়গাটি এক সময় ছিল শুধুই নদীর চর সেই জায়গাটিই আজ শতশত ভ্রমণ পিপাসুর পদচারণায় মুখরিত। প্রকৃতি যেন তার আপন মহিমায় সাজিয়েছে এ পর্যটন কেন্দ্রকে। সকালে এক রকম, দুপুরে আরেক রকম, তো বিকেলে ভিন্ন রূপ ধারণ করে সবুজে ঘেরা এ পর্যটন কেন্দ্রটি। জোয়ারের সময় ট্রেইলগুলোর নিচে একদমই পানিতে পরিপূর্ণ থাকে, আবার ভাটার সময় দেখা যায় একদমই নিচ পর্যন্ত। যা এই ইকো ট্যুরিজম সেন্টারের সৌন্দর্য এবং আকর্ষণকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। পর্যটন কেন্দ্রটিতে মূল ফটকের বামপাশেই রয়েছে বিশাল গাড়ী পার্কিং স্পেস। যেখানে প্রায় ৬০টির মতো গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের সুবিধার্থে আমি স্ক্রিনে টিকিটের প্রবেশ মূল্যের ছবি দিয়ে দিচ্ছি, যেখানে আপনারা পার পারসন এন্ট্রি ফি ছাড়াও গাড়ী পার্কিং খরচ ও দেখতে পাবেন। আর মূল ফটকের ডানপাশে রয়েছে “বাদাবনের হেঁসেল” নামক একটি আধুনিক রেস্টুরেন্ট। যেখানে আপনারা খুব সহজেই পেয়ে যাবেন পছন্দমতন খাবার। পর্যটন কেন্দ্রটিতে ঢুকে কিছুদূর এগুতেই গাছের শাখা-প্রশাখার মতো ছড়িয়ে গেছে সুদৃশ্য কাঁচাপাকা ট্রেইল। ট্রেইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে চলে যাওয়া যায় চুনা নদীর তীরে। যার ওপারেই সুন্দরবন। সময়ের পরিক্রমায় বাঁশের তৈরী ট্রেইলগুলো অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে, অনেক ট্রেইলের বাঁশ সরে গিয়েছে, তাই প্রশাসন এর সংস্কারের ব্যাপারে নজর দিবে আশা করছি, আর আপনারাও হাঁটার সময় এ ব্যাপারটা খেয়াল করে হাঁটবেন, যাতে পা মচকে যাওয়া বা পড়ে যাওয়ার মত কোন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা না ঘটে। প্রতিটা ট্রেইলের সাথেই রয়েছে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঝুড়ি, সবাই ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবেন। এখানে আসলে দেখা যাবে সাবেক বিভাগীয় কমিশনারের নামে নামকরণকৃত আবদুস সামাদ ফিস মিউজিয়াম। যেখানে সংরক্ষিত আছে সুন্দরবনের অনেক বিলুপ্ত এবং বর্তমানের নদ-নদীর মৎস্য সম্পদ, থাকবার জন্য রয়েছে উন্নতমানের আবাসিক ইকো কটেজ “বনবিলাস”। রয়েছে নিজেদের রান্না করার জন্য গ্যাস এবং চুলার সু-ব্যবস্থা। এ ছাড়াও রয়েছে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য বেসিন এবং ওযু করার সু-ব্যবস্থা। রয়েছে মোটামুটি কাজ চালিয়ে নেওয়ার মত পরিচ্ছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা। এছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার, সুন্দরবনের সুন্দর ভিউ পাওয়ার জন্য রয়েছে নদীর চরে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এ ছাড়াও রয়েছে ট্রলার কিংবা স্পিডবোট ভাড়া করে সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়া এবং সুন্দরবনের মনোরম সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করার সব ধরনের ব্যবস্থা। আকাশলীনা ইকো পার্কটির সম্পূর্ণটাই মায়াময় সবুজের আস্তরণে মোড়া। সুন্দরবনের কেওড়া, বাইন, সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, গরান, কাঁকড়া, খলিসাসহ নানান বৃক্ষরাজির সুশৃঙ্খল বনায়ন ঘটেছে পর্যটন কেন্দ্রটিতে। সারি সারি ছোটোবড়ো বৃক্ষরাজির ফাঁকফোকড় গলে শাখা-প্রশাখার মতো এঁকেবেঁকে এদিকসেদিক বয়ে গেছে বাঁশ-কাঠ আর সিমেন্ট-বালুতে তৈরি সুদৃশ্য রঙিন ট্রেইল। এই ট্রেইল ধরে চলে যাওয়া যায় চুনা নদীর একেবারে ভেতরে। ছুঁয়ে দেখা যায় কলকল ছলছল বয়ে চলা সুশীতল জলরাশি। সারি সারি কেওড়া, গেওয়াসহ সুন্দরবনের বৃক্ষরাজির সমাহারে ঘেরা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার সব সময় শালিক, বকসহ নানা প্রজাতির পাখির কিচির মিচির শব্দে মাতোয়ারা থাকে। দেশের যে কোনো স্থান থেকে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে বাস থেকে নামতেই যেমন সুন্দরবন চোখে পড়ে, তেমনি হাঁটাপথের দূরত্বেই পর্যটকদের মন কাড়ছে সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার। আকাশলীনা ইকো টুরিজম সেন্টারটির ছায়া সুনিবিড় সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থী এ
বং পর্যটকদের আকর্ষণ করে তীব্রভাবে। তাই তো আকাশলীনাতে প্রতিদিন পর্যটকদের সমাগম হয়ে থাকে প্রচুর।

No comments

ধন্যবাদ।

Powered by Blogger.